দুই মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনে মাছ ধরা শুরু

75

বাগেরহাট প্রতিনিধি: সুন্দরবনের নদী-খালে দুই মাস মাছ বন্ধ থাকার পর আবারো শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধসহ বন অপরাধ কমানোর জন্যই ১লা জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ শিকার নিষিদ্ধ করে বনবিভাগ। নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যাওয়ায় বন নির্ভরশীল উপকূলের হাজার হাজার জেলে জাল-নৌকা নিয়ে সুন্দরবনে মাছ শিকারে যেতে শুরু করেছেন। নিষেধাজ্ঞার দরুন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে এখন কর্মব্যস্ততা বেড়েছে।
দীর্ঘ দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মোংলাসহ আশপাশ উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র জেলে পরিবার অনেকটা অভাব অনটনেই দিন কাটায়। অনেকে কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি জমান। দুই মাস দুরদুরান্তে কাজ কর্ম করেছেন তারা। নিষেধাজ্ঞা শেষের খবর পেয়ে তারা আবারো নিজ গ্রামে ছুটে এসেছেন। এখন পুরানো নৌকা ও জাল মেরামত করে বনবিভাগের কাছ থেকে পাস নিয়ে যেতে শুরু করেছেন সুন্দরবনে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই-আগস্ট দুই মাস সুন্দরবনে মাছের প্রজনন মৌসুম। এ সময় মাছ ধরা হলে ডিমওয়ালা ‘মা’ মাছ মারা পড়ে। অসাধু এক শ্রেণীর জেলেরা এক সাথে বেশি এবং বড় মাছের আশায় বনের ছোট-বড় খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে থাকেন। এতে মৎস্য সম্পদসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও ধ্বংস হয়ে থাকে। এর বিরুপ প্রভাব পড়ে থাকে সুন্দরবনের গোটা জীববৈচিত্রে। তাই মাছের প্রজনন ও বিষ দিয়ে মাছ শিকার রোধে বন বিভাগ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলার জয়মনিরঘোল এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ও তালেব খান বলেন, বনবিভাগ নিষেধাজ্ঞা জারির আগে জেলে নৌকা প্রতি আমাদের এক লাখ থেকে সোয়া লাখ টাকা পর্যন্ত দাদন দেয়া ছিল। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় দাদন দেয়া টাকা জেলেরা বসে বসে খেয়ে শেষ করেছেন। এখন নতুন করে আবার দাদন দিয়ে তাদেরকে সুন্দরবনে পাঠাতে হবে। এতে আমাদের এ মৌসুমে খরচ উঠবে কিনা তাই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারপরও এটাই পেশা, লাভ-লোকসান যাই হোক, এছাড়া অন্য কিছু করারও নেই।
মোংলা বাজারের মৎস্য আড়ৎদার দ্বীন ইসলাম, মজিবর শেখ ও জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, চিলা, জয়মনি, গাববুনিয়া, মিঠাখালী, বাশতলাসহ উপজেলার শত শত জেলে আগে থেকেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে বসে আছে। এখন দীর্ঘদিন বসে থাকার পর যা জেলেদের আয় হবে তা দিয়ে দাদন পরিশোধ করবেন নাকি সংসার চালাবেন এ নিয়ে দু:শ্চিতায় পড়েছেন তারা।
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ষ্টেশন অফিসার মো: কামরুল ইসলাম বলেন, বন অপরাধ দমন বিশেষ করে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে দুই মাস সুন্দরবনে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। যেহেতু নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে তাই ১লা সেপ্টেম্বর থেকে জেলেরা পাস নিয়ে বনে ঢুকতে শুরু করেছেন। রবিবার শুধু চাঁদপাই ষ্টেশন থেকেই পাস নিয়ে প্রায় দেড়শ জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া অন্যান্য ষ্টেশন থেকেও পাস নিয়ে জেলেরা বনে যাচ্ছেন।##

বাগেরহাটে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি
বাগেরহাট
গত ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাটে নতুন ৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগি ভর্তি হলেও কমেছে আক্রান্তের সংখ্যা বলছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন এডিস মশা প্রজনন ধ্বংস করতে বাড়ি বাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, সকলের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে খুব শীঘ্রই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সফলতা আসবে বলে জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা সিভিল সার্জন জিকেএম সামছুজ্জামান বলেন, জেলায় ১৮৭ জন ডেঙ্গু রোগীর সনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ১৭৫ জন বাড়ি ফিরে গেছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতলে ৮ জন নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।
রোগিরা বলছেন, বাড়িতে কয়েকদিন ধরে জ্বর থাকায় হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখাবার পর ব্লাড পরিক্ষায় ডেঙ্গু সনাক্ত হয়েছে। এখন আগের চেয়ে ভাল। আবার কেউ চট্্রগ্রাম থেকে জ্বর নিয়ে বাগেরহাট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ ইমরান মোহাম্মাদ বলেন, বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ৬ জন নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া এই হাসপাতাল থেকে ১০০ জন রোগি চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে আগের তুলনায় রোগির সংখ্যা কমে আসছে বলে জানান তিনি।

বাগেরহাট
০২.০৯.১৯