রায়পুরে হায়দরগন্জ বাজারের পরিবেশকে সুন্দর করতে চাই পরিচ্ছন্ন খাল।

160

আখতার হোসাইন খান, বিশেষ প্রতিনিধি

প্রতিটি মানুষের অপরিহার্য দায়িত্ব পরিবেশকে সুন্দর রাখা। পরিবেশকে সুন্দর না রাখলে সুন্দর মানসিকতার সৃষ্টি হয় না। আমাদের চারপাশ যত সুন্দর হবে আমাদের মন মানসিকতাও তত সুন্দর এবং উন্নত হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা জীবন ও পরিবেশের জন্য একান্ত দরকার। কেননা রাসূল (সা:) বলেছেন, “পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ’’। হাদীসের আলোকে সুস্থ মন মানসিকতা তৈরির জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কোন বিকল্প নাই। শুধু আমার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারেই নয়, সমস্ত এলাকা এবং এমন কি শহর, বন্দর, নগর পর্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার।

প্রযুক্তির কল্যাণে আজ বিশ্ব অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশও পিছিয়ে নেই। কিন্তু সঠিক ব্যক্তি ও দুর্নীতি মুক্ত কর্মকর্তার অভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন আটকে আছে আমাদের দেশ। এখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি এবং অর্থলোপাটের হোলি খেলা চলছে। তাই নগর জীবন নিয়ে ভাবনা আর তাদের নেই। অনেক ব্যক্তি টাকা আত্মসাতের খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। শত শত কোটি টাকার বিত্ত বৈভবের পাহাড় গড়ে তুলেছে একেক জন। কিসের দেশের উন্নয়ন আর জনসেবা। মিথ্যা অহমিকা ক্ষমতা দেখিয়ে  যাচ্ছেন অনেকে।  দেশ কল্যাণ  ভাবনা বলতে ওদের কিছুই নেই।  সরকারের ছত্রছায়ায় আরো ব্যাপক অন্যায় সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি।
হায়দরগন্জ বাজারের তথা দূর এলাকার পানি সরতে যে সমস্ত সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে সেগুলো হলো খালেরর উপর ময়লা আবর্জনা ফেলা। কো নিদিষ্ট  স্থান না থাকায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়।
আবর্জনা ফেলার জন্য নেই কোন আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং এগুলোকে সঠিক সময়ে সরিয়ে না ফেলার জন্য দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখার জন্য পরিবেশ বিশ্রী হয়ে যায়। প্রশাসন কর্তৃৃৃপক্ষ আন্ডারে কোন ধরনের মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় দিনে দিনে উদ্ভূত সমস্যাগুলো বাজারের পরিবেশকে জীবনকে আরো কষ্টদায়ক করে তুলছে।
লক্ষ্মীপুুুর জেলার রায়পুুুর উপজেলার উপশহর হায়দরগঞ্জকে  উন্নত শহর বাজারে পরিণত করতে হলে অবশ্যই নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবকিছু পরিচালিত করতে হবে। বিশেষ করে দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে আগে মানসিক পরিচ্ছন্নতা আনতে হবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সত্যিকারভাবে দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। আর এভাবে যদি মানসিক সংস্কার সাধনের মাধ্যমে নিজের পরিবর্তন ঘটানো যায় তবে আশা করা যায় নিজের পরিবারের এবং সমস্ত পরিবেশের সুস্থতা ফিরিয়ে আনা যাবে এবং নগর জীবন বদলে যাবে ও আচার আচরণেও পরিবর্তন আসবে।
শুধু কথার ফানুষেই নয় কাজের বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু লোক দেখানো প্রকল্প হাতে নেয়া নয় বাস্তব এবং পরিকল্পিত গণপূর্ত বিভাগ নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে একটি সুষ্ঠু ও সুস্থ শহর গড়ে তোলার জন্য কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে এবং জনগণকে বিভিন্ন প্রজেক্টরের মাধ্যমে খাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার প্রশিক্ষণ দিতে হবে যাতে আমাদের চারপাশকে আমরাই সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টিতে আগ্রহী হই এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন শো ও র‌্যালির মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারি।
আর এভাবে যদি প্রতিনিয়ত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, তবে অবশ্যই শহর, নগর, গ্রাম উন্নত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আসুন, এভাবেই সরকারি এবং বেসরকারিভাবে জন সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে দেশ জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করে সুস্থ, সুন্দর ও উন্নত পরিবেশ গড়ে তুলি এবং জনজীবনে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরিতে সকলের অংশগ্রহণ করা উচিত। পরিশেষে একথা অবশ্যই বলা যায় যে, পরিচ্ছন্ন মানসিকতাই পারে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে।
-শিক্ষক,সাংবাদিক  ও কলামিস্ট