নওগাঁর রাণীনগরে বেড়িবাঁধ ভেঙে তিন গ্রাম প্লাবিত

172

তানভীর আহম্মেদ ,রাণীনগর ,নওগাঁ (প্রতিনিধি ):
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার নান্দাইবাড়ি-মালঞ্চির প্রায় ৫০ হাত বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। শুক্রবার ভোররাতে এই বাঁধটি ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে এই এলাকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েকশ পুকুর, আমন ধান ও শতাধিক হেক্টর সবজির আবাদ। তবে ছোট যমুনা নদীতে পানির গতিবেগ কম থাকায় পানিতে প্লাবিত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি কম হবে বলে ধারণা করছে এলাকাবাসী।

গোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খাঁন হাসান বলেন, আমার এলাকার ছোট যমুনা নদীর নান্দাইবাড়ি, মালঞ্চি, কৃষ্ণপুর বেড়িবাঁধটি নির্মিত হওয়ার পর থেকে অভিভাবকহীন। কোনো দপ্তর কোনোদিন এই বাঁধটি সংস্কার করেনি। এমনকি এই বাঁধটিকে কোনো দপ্তরই তাদের বলে স্বীকার করে না, যার কারণে সংস্কার ও উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। যার ফলে বাঁধটি দীর্ঘদিন যাবত চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

চেয়ারম্যান জানান, বাঁধটির মালঞ্চি এলাকার কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এতে নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শুধু বাড়ি-ঘরই নয় এই এলাকা পুকুর ও সবজির আবাদের জন্য বিখ্যাত। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই বন্যার কারণে এই এলাকা কয়েকশ পুকুর ও শতাধিক হেক্টরের সবজির আবাদ পানিতে তলিয়ে যাবে।

এদিকে নওগাঁ-আত্রাই সড়কের বেশকিছু জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় স্থানীয়রা রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ভেঙে যাওয়া অংশে নদীর পানিতে তেমন গতি না থাকায় বন্যাকবলিত এলাকা ছাড়া অন্যান্য ফসলের তেমন উল্লেখ্যযোগ্য ক্ষতি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্লাবিত তিনটি গ্রামের সবজির আবাদ ও পুকুর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে বন্যা কবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন  বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তাদের জন্য সহায়তা হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পদক্ষেপ নিয়েছি। এছাড়া ভেঙে যাওয়া অংশ বাঁধার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাঁধটি পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।