নাট্যাধারা নাট্য উৎসবের প্রথম দিনে ‘আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে’ মঞ্চায়িত

81

ইমরান হোসাইন, সিরাজগঞ্জঃ

সিরাজগঞ্জ নাট্যাধারার ৮ দিন ব্যাপী নাট্য উৎসব-২০১৯ এর প্রথম দিনে মঞ্চায়িত হল নাটক ‘আষাঢ়ষ্য প্রথম দিবসে’। রবিবার সন্ধ্যা ৬ টায় জেলার কাজীপুর শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ামে ঢাকা থিয়েটার ফ্যাক্টরির এ নাটক মঞ্চায়িত হয়। মোহন রাকেশের রচনায় অলোক বসুর নির্দেশনায় নাটকটি মঞ্চায়ন করা হয়। নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জিতা শারমীন, শামসুন নাহার বিউটি, রামিজ রাজু, হাসানুজ্জামান খান, আর কে এম মোহসেন, মিশাল সমাপ্ত, অলোক বসু, হাসানুজ্জামান, সুরভী রায়, নীল সমুদ্র, সঙ্গীতা বড়–য়া, মাসরুরা শারমীন, কৃপা, সুরভী, জুয়েল, মোহসীন, হাসান, মিশাল, সুমন, গল্প প্রমূখ। নাটকের বিষয়বস্তু চিল ‘প্রকৃতি আর প্রেম যেন কবি কালিদাসর সাথে হাত ধরাধরি করে চলে। কালিদাস মাতুলের বাড়িতে থাকেন। মাতুলের গরু চড়ানোই তার কাজ। কিন্তু তার মন পড়ে থাকে প্রকৃতির মাঝে। প্রকৃতির সাথে তার হার্দিক সম্পর্ক। প্রকৃতির প্রতি তার ভালোবাসা কবিতার ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে পড়ে থাকে চারদিকে। উজ্জয়িনী থেকে রাজার লোক আসে তাকে রাজকবির সম্মান দিয়ে রাজধানীতে নিয়ে যেতে। কিন্তু কালিদাস রাজসম্মানে লালায়িত নন। তিনি তার গাঁ ছেড়ে যেতে চান না। কারণ নানা রকম সুতো দিয়ে তিনি বাঁধা পড়ে আছেন গাঁয়ের সাথে, মাটির সাথে, জন্মস্থানের সাথে। আকাশ, মেঘমালা, সবুজমাঠ, হরিণছানা এসবের সাথে তার প্রাণের সম্পর্ক। তার জীবনে আরও একটা সম্পর্ক আছে, সে সম্পর্কটা হল-ভাবনার। মল্লিকা তাকে ভালোবাসে। মল্লিকাকেও তিনি ভালোবাসেন, যেমন ভালোবাসেন প্রকৃতি ও তার জন্মভূমি। রাজার আমন্ত্রণে রাজধানীতে যাওয়ার জন্য কালিদাসকে অনুরোধ করে মল্লিকা। কারণ মল্লিকা জানে গাঁয়ের লোকজন কালিদাসের কাব্য প্রতিভার মূল্য বোঝে না, এখানে থাকলে তার প্রতিভার বিকাশ ঘটবে না। তাই মল্লিকা চায় কালিদাস রাজধানীতে গিয়ে তার প্রতিভার বিকাশ ঘটাক। মল্লিকার মা অম্বিকা চায় কালিদাস তার মেয়েকে বিয়ে করে ঘর-সংসার করুক। কিন্তু মল্লিকা এখনই বিয়ে করতে চায় না। অন্যদিকে কালিদাস তার গাঁ ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না। কারণ এখানে বর্ষা আসে রাজার মতো, মেঘের শোভা নীল পদ্মের মতো, কখনও পুঞ্জিভূত দলিত কাজলের মতো, কখনওবা গর্ভবতী রমণীর স্তনের মতো। মেঘের মনোরম গর্জনে উল্লসিত ময়ূর ময়ূরী চুম্বন-আলিঙ্গন চেষ্টায় উন্মত্ত হয়ে নৃত্য করে, এ গাঁ ছেড়ে গেলে কোথায় পাবেন তা কালিদাস? এখান থেকে চলে গেলে যে সোনার মাটি থেকে উপড়ে যাবেন কালিদাস। মল্লিকার অনুরোধে কালিদাস উজ্জয়িনীতে যায়। কালিদাসের কবিখ্যাতি দিনদিন ছড়িয়ে পড়ে। রাজকন্যা প্রিয়মঞ্জুরির সাথে তার বিয়ে হয়। মাত্রগুপ্ত নাম ধারণ করে শাসনকর্তা বনে যান তিনি। কিন্তু কালিদাসের মন পড়ে থাকে তার গাঁয়ে। নিজের গাঁ-প্রকৃতি থেকে কালিদাস যা লিখেছেন তা তার নিজ গাঁয়ের, প্রকৃতির সঞ্চয় ভাঙ্গিয়ে লিখেছেন। একটা সময় এসে দেখলেন নতুন আর কিছু লিখতে পারছেন না কালিদাস। তখনই সবকিছু ছেড়েছুড়ে ফিরে আসেন নিজের গাঁয়ে, মল্লিকার কাছে। ততদিনে জল অনেকটা গড়িয়েছে। কোনোকিছুই আর আগের মতো নেই। একমাত্র অবলম্বন মা আম্বিকাকে হারিয়ে মল্লিকা নিঃস্ব- অসহায় হয়ে দারিদ্রের কষাঘাত আর সামাজিক প্রতিকূল প্রতিবেশে জীবন যুদ্ধে টিকে আছে মাত্র। যে মল্লিকা কালিদাসকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলো বড় কবি হতে, সেই মল্লিকাও কি আগের মতো আছে? আর যে মল্লিকা অপেক্ষা-উপেক্ষায় সযতনে মনের মাঝে কালিদাসের সৃজনশীলতাকে লালন করে চলেছে, সেই কালিদাসও কি আর আগের মতো আছে? নতুন করে কি আবার সবকিছু শুরু করা যায়? যায় কি? এর উত্তর বলে দিতে পারে সময়। সময় অনেক বেশি শক্তিমান। কারণ সে অপেক্ষা করে না।’

সিরাজগঞ্জ নাট্যাধারার ৮ দিন ব্যাপী নাট্য উৎসব-২০১৯ এর প্রথম দিনে মঞ্চায়িত হল নাটক ‘আষাঢ়ষ্য প্রথম দিবসে’। রবিবার সন্ধ্যা ৬ টায় জেলার কাজীপুর শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ামে ঢাকা থিয়েটার ফ্যাক্টরির এ নাটক মঞ্চায়িত হয়। মোহন রাকেশের রচনায় অলোক বসুর নির্দেশনায় নাটকটি মঞ্চায়ন করা হয়। নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জিতা শারমীন, শামসুন নাহার বিউটি, রামিজ রাজু, হাসানুজ্জামান খান, আর কে এম মোহসেন, মিশাল সমাপ্ত, অলোক বসু, হাসানুজ্জামান, সুরভী রায়, নীল সমুদ্র, সঙ্গীতা বড়–য়া, মাসরুরা শারমীন, কৃপা, সুরভী, জুয়েল, মোহসীন, হাসান, মিশাল, সুমন, গল্প প্রমূখ। নাটকের বিষয়বস্তু চিল ‘প্রকৃতি আর প্রেম যেন কবি কালিদাসর সাথে হাত ধরাধরি করে চলে। কালিদাস মাতুলের বাড়িতে থাকেন। মাতুলের গরু চড়ানোই তার কাজ। কিন্তু তার মন পড়ে থাকে প্রকৃতির মাঝে। প্রকৃতির সাথে তার হার্দিক সম্পর্ক। প্রকৃতির প্রতি তার ভালোবাসা কবিতার ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে পড়ে থাকে চারদিকে। উজ্জয়িনী থেকে রাজার লোক আসে তাকে রাজকবির সম্মান দিয়ে রাজধানীতে নিয়ে যেতে। কিন্তু কালিদাস রাজসম্মানে লালায়িত নন। তিনি তার গাঁ ছেড়ে যেতে চান না। কারণ নানা রকম সুতো দিয়ে তিনি বাঁধা পড়ে আছেন গাঁয়ের সাথে, মাটির সাথে, জন্মস্থানের সাথে। আকাশ, মেঘমালা, সবুজমাঠ, হরিণছানা এসবের সাথে তার প্রাণের সম্পর্ক। তার জীবনে আরও একটা সম্পর্ক আছে, সে সম্পর্কটা হল-ভাবনার। মল্লিকা তাকে ভালোবাসে। মল্লিকাকেও তিনি ভালোবাসেন, যেমন ভালোবাসেন প্রকৃতি ও তার জন্মভূমি। রাজার আমন্ত্রণে রাজধানীতে যাওয়ার জন্য কালিদাসকে অনুরোধ করে মল্লিকা। কারণ মল্লিকা জানে গাঁয়ের লোকজন কালিদাসের কাব্য প্রতিভার মূল্য বোঝে না, এখানে থাকলে তার প্রতিভার বিকাশ ঘটবে না। তাই মল্লিকা চায় কালিদাস রাজধানীতে গিয়ে তার প্রতিভার বিকাশ ঘটাক। মল্লিকার মা অম্বিকা চায় কালিদাস তার মেয়েকে বিয়ে করে ঘর-সংসার করুক। কিন্তু মল্লিকা এখনই বিয়ে করতে চায় না। অন্যদিকে কালিদাস তার গাঁ ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না। কারণ এখানে বর্ষা আসে রাজার মতো, মেঘের শোভা নীল পদ্মের মতো, কখনও পুঞ্জিভূত দলিত কাজলের মতো, কখনওবা গর্ভবতী রমণীর স্তনের মতো। মেঘের মনোরম গর্জনে উল্লসিত ময়ূর ময়ূরী চুম্বন-আলিঙ্গন চেষ্টায় উন্মত্ত হয়ে নৃত্য করে, এ গাঁ ছেড়ে গেলে কোথায় পাবেন তা কালিদাস? এখান থেকে চলে গেলে যে সোনার মাটি থেকে উপড়ে যাবেন কালিদাস। মল্লিকার অনুরোধে কালিদাস উজ্জয়িনীতে যায়। কালিদাসের কবিখ্যাতি দিনদিন ছড়িয়ে পড়ে। রাজকন্যা প্রিয়মঞ্জুরির সাথে তার বিয়ে হয়। মাত্রগুপ্ত নাম ধারণ করে শাসনকর্তা বনে যান তিনি। কিন্তু কালিদাসের মন পড়ে থাকে তার গাঁয়ে। নিজের গাঁ-প্রকৃতি থেকে কালিদাস যা লিখেছেন তা তার নিজ গাঁয়ের, প্রকৃতির সঞ্চয় ভাঙ্গিয়ে লিখেছেন। একটা সময় এসে দেখলেন নতুন আর কিছু লিখতে পারছেন না কালিদাস। তখনই সবকিছু ছেড়েছুড়ে ফিরে আসেন নিজের গাঁয়ে, মল্লিকার কাছে। ততদিনে জল অনেকটা গড়িয়েছে। কোনোকিছুই আর আগের মতো নেই। একমাত্র অবলম্বন মা আম্বিকাকে হারিয়ে মল্লিকা নিঃস্ব- অসহায় হয়ে দারিদ্রের কষাঘাত আর সামাজিক প্রতিকূল প্রতিবেশে জীবন যুদ্ধে টিকে আছে মাত্র। যে মল্লিকা কালিদাসকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলো বড় কবি হতে, সেই মল্লিকাও কি আগের মতো আছে? আর যে মল্লিকা অপেক্ষা-উপেক্ষায় সযতনে মনের মাঝে কালিদাসের সৃজনশীলতাকে লালন করে চলেছে, সেই কালিদাসও কি আর আগের মতো আছে? নতুন করে কি আবার সবকিছু শুরু করা যায়? যায় কি? এর উত্তর বলে দিতে পারে সময়। সময় অনেক বেশি শক্তিমান। কারণ সে অপেক্ষা করে না।’