সরকারি বাঙলা কলেজে ১৯৭১ সালে কী ঘটেছিল।

150
  • নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহরিয়ার মাসুদ
বাংলাদেশের এক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম সরকারি বাঙলা কলেজ। কলেজটি ১৯৬২সালে ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।কলেজটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষ্য বহন করে। কলেজটির প্রতিটি ইটে এখনও মহান শহীদদের আর্তনাদ শোনা যায়।এই কলেজের বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার বাঙালিকে হত্যা করে গণকবর দিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ, প্রফেসর মকফুর হোসেন বাঙলা কলেজে ১৯৭১ সালে কি ঘটেছিল তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমি ২০১১ সালে কলেজে যোগদান করি। তারপর আমি কলেজের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার চেষ্টা করি। এই কলেজে আনোয়ারা বেগম নামে একজন আয়া ছিল। যিনি কলেজের সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকে এখানে কর্মরত ছিলেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তার কথা শোনার। তার মুখ থেকে জানতে পারি কলেজের বর্তমান প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় ছিল টর্চারসেল।নিচতলায় বিভিন্ন রুমে লোকজন ধরে এনে টর্চার করা হতো এবং হত্যা করে পিছনের কচুরিপানা ভর্তি লেকে ফেলে দেওয়া হতো। এছাড়াও বর্তমান প্রিন্সিপাল কোয়াটারের পাশেই একটা গাছ আছে সেখানে গাবগাছের শিকড়ের উপর লোকজনকে ফেলে মাথা ও দেহ আলাদা করে দেহটাকে পাশের লেকে ফেলে দেওয়া হতো।
এছাড়া বর্তমান হোস্টেলের পাশেই একটা আমগাছ ছিল এবং তার পাশেই একটা কূপ ছিল। সেখানে গণকবর দেওয়া হতো। বর্তমান টিনশেডের পাশেও একটা কুয়া ছিল যা গণকবর হিসেবে ব্যবহার হতো। এছাড়াও সম্মান ভবনের ৪ নং বিল্ডিং এর পাশে কদম, নারিকেল গাছ বেষ্টিত জায়গাতে ও গণকবর দেওয়া ‌‌‌হতো। কলেজের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা লাশ এসব কুয়ায় গণকবর দেওয়া হতো।আনোয়ারা বেগম আরো বলেন, এসব লাশের গন্ধে আমি এক মাস ভাত খেতে পারিনি।
কলেজের প্রশাসন ভবনের সামনে একটা পুকুর ছিল এবং পুকুরপাড়ে ঝোপঝাড় ছিল। সেকারনে ভিতরে কি হচ্ছে তা বাইরে থেকে বোঝা যেত না। এভাবেই ১৯৭১ সালে বাঙলা কলেজে দিনের পর দিন নারী পুরুষকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হতো।