নিরাপত্তাহীনতায় রাঙ্গাবালীর সাংবাদিকরা!

48
নিরাপত্তাহীনতায় রাঙ্গাবালীর সাংবাদিকরা!

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে পেশাগত দায়ীত্ব পালন করছে রাঙ্গাবালীর সংবাদ কর্মীরা। সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলেই কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় কিছু নেতৃবৃন্দের রোষানলে পরে তারা। উৎকোচের বিনিময়ে কাজ চালিয়ে যায় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা। তাদের ছোবল থেকে রেহাই পায়না সাধারণ মানুষ।

তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে হামলা মামলায় পরতে হয় সাংবাদিকদের। আক্রান্ত হয় তারা। ক্যামেরা মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয় তাদের কাছ থেকে। যেমনটা ঘটে ছিল ইতিপুর্বে একাধিকবার। অনিয়মের ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। কোড়ালিয়া লঞ্চঘাটে বেশী ভারা আদায় করা হয় এমন সংবাদ পেয়ে সংবাদ কর্মীরা সেখানে গেলে ৩ সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে রাখে ঘাট মালিকের লোকেরা । খবর পেয়ে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে নিজেদের দোষ চাপা দিতে ওই তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যে চাদাবাজীর মামলা করা হয়। পটুয়াখালী জেলা প্রেস ক্লাবের হস্তক্ষেপে মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয় তারা। ঠিক তেমনি ভাবে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের ভূমি অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক অবরুদ্ধ হয়ে পরেন।। অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন তারা। তাদের হাত থেকে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন সহকারী ভুমি কর্মকর্তা ( তহশীলদার) মনিরুজ্জামান এবং তাদের অবরূদ্ধ করে রাখেন অফিসের ভিতর। খবর পেয়ে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে-দশটার দিকে উপজেলা সদর বাহেরচর বন্দরে ইউনিয়ন ভুমি অফিসে এঘটনা ঘটে।

সংবাদকর্মী দুজন অফিসের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা পান ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মনিরুজ্জামানের। খালি গা, গলায় গামছা, পরনে লুঙ্গি। এ অবস্থায় চালিয়ে যাচ্ছেন অফিসের কাজ। পাশাপাশি সেবা নিতে আসা কয়েকজন লোকের সঙ্গে কাগজপত্রের কাজ করে দেওয়ার কথা বলে টাকা-পয়সা আদান প্রদানের কথাবার্তা চলছিল। ঠিক ওই মুহুর্তে একজন সাংবাদিক ওই কর্মকর্তার স্থিরচিত্র ক্যামেরায় ধারণ করেন। দেখতে পেয়ে ওই কর্মকর্তা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তুই ছবি তুলছস ক্যা? তুই কে? তোকে আমি দেখে নেব। তুই আমারে চেনোস?’

এ সময় তাঁর অফিস স্টাফদের বলেন, ‘দরজা বন্ধ কর’ এবং সঙ্গে সঙ্গে ওই সাংবাদিকের হাত থেকে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন তহশিলদার মনিরুজ্জামান। খবর পেয়ে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা এসে ক্যামেরা উদ্ধার করেন।

ভূমি সহকারী তহশিলদারের হাতে লাঞ্ছিত দুই সাংবাদিক হলেন, দৈনিক নয়াদিগন্তের রাঙ্গাবালী সংবাদদাতা মু. জাবির হোসেন ও দৈনিক ভোরের কাগজের রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি কামরুল হাসান রুবেল। এ ঘটনায় লাঞ্ছিত সাংবাদিক রুবেল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা মঙ্গলবার সকালে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি তহশিলদার মনিরুজ্জামান গায়ের শার্ট খুলে গলায় গামছা ঝুলিয়ে ও লুঙ্গি পরা অবস্থায় অফিসকক্ষে বসে কাজ করছেন। এ অবস্থায় ছবি তুলতে গেলে মনিরুজ্জামান আমাদের হাত থেকে প্রথমে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। পরে আমরা যাতে প্রশাসনকে অবহিত করতে না পারি সে জন্য মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। ওই অফিসের সার্ভেয়ার সজল মাহমুদ আমাদের অবরুদ্ধ করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেন।

সাংবাদিক জাবির হোসেন বলেন, ‘ভূমি অফিসে অনিয়মের ছবি তুলতে গেলে তহশিলদার মনিরুজ্জামান ও সার্ভেয়ার সজল মাহমুদ দালালদের নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা গিয়ে আমাদের উদ্ধার করেন।

অভিযুক্ত তহশিলদার মনিরুজ্জামান ও সার্ভেয়ার সজল মাহমুদ এ ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং বানোয়াট বলে দাবি করেন। এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি আলী আহম্মেদ বলেন, তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।