জনগণের বন্ধু অ্যাডিশনাল এসপি মাহমুদ

132

আরিফুর রহমান আরিফ: ঝালকাঠি জেলার আইন – শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং সবার জন্য আইনের ‘সমান অধিকার’ প্রতিষ্ঠার যে ব্রত নিয়ে অ্যাডিশনাল এসপি হিসেবে এসেছিলেন মাহমুদ হাসান , তার বিদায়জনিত কারণে সমাপ্তি অবশেষে। সম্প্রতি ঝালকাঠি জেলা থেকে এন্টি টেরোরিজম ইউনিট, ঢাকায় বদলী হন তিনি। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর নিয়ম মেনে, সকল আবেগের ঊর্দ্ধে উঠে বিদায় নিয়েছেন ঝালকাঠি জেলার সাধারণ মানুষের কাছে আস্থা ও ভালোবাসা প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠা প্রজাতন্ত্রের এই কর্মকর্তা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়েও শুধু নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যে মানুষটা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে এসেছিলেন মানুষের অনেক কাছে, তার বিদায়ে ঝালকাঠিবাসী আবেগতাড়িত, বাকরুদ্ধ ও অশ্রুসিক্ত ।

টানা পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পর বুধবার রাতে তাঁর বদলিকৃত কর্মস্থলের উদ্দ্যেশে ঝালকাঠি ত্যাগ করেন। তাঁকে বিদায় জানাতে ঝালকাঠির সর্বস্তরের মানুষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা তার কার্যালয়ে সকাল থেকে ভীড় করেন।
মাহমুদ হাসান ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর এএসপি(সদর সার্কেল) হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৫ বছরে দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত সুনাম ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
এসময়ে তিনি সেবামূলক প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দুইবার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক “প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম-সেবা)”, টানা ১০ বার বরিশাল রেঞ্জের “শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার” এবং জনসেবায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন থেকে “বেস্ট সেবা প্রদানকারী অফিসার” নির্বাচিত হন। একজন জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে জেলাবাসীর পরম বন্ধু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
এছাড়াও প্রতিদিন শতশত সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তার অফিসে ছুটে এসে তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পেরেছে এবং তাৎক্ষনিকভাবে তাদের সমস্যার সমাধানও পেয়েছে।
পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সাথে সু-সম্পর্ক রেখেই কাজ করেছেন তিনি।

বিদায় বেলায় এই কর্মকর্তা নিজের ফেইসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। যা সবার দৃষ্টি কাড়ে- “দীর্ঘ ০৫ বছর ঝালকাঠি জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলাম। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঝালকাঠি থেকে আজ বিদায় নিলাম। সম্মানিত রেঞ্জ ডিআইজি স্যার, এসপি ঝালকাঠি স্যার, অ্যাডিশনাল এসপি হাবিবুল্লাহ স্যারসহ সকল সহকর্মী, মিডিয়া কর্মী সহ ঝালকাঠি জেলার সকলের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।ঝালকাঠিকে আমি কোনদিনই ভুলবনা, বিদায় বেলায় এ জেলার মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসার কাছে আমি চিরঋণী হয়ে রইলাম।
“My beloved Jhalokati, I’ll miss you”.

সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার এক প্রিয় নাম অ্যাডিশনাল এসপি মাহমুদ হাসান। তার কর্মকালে সকলের সাথে সুসম্পর্ক রেখে জনসাধারণকে তিনি উজার করা সেবা দিয়েছেন, বিপদে-আপদে জনগণের পাশে দাড়িয়ে অসহায় ও নিপীড়িতদের সাহস ও শক্তি যুগিয়েছেন। ঝালকাঠিবাসীর আত্নার মানুষ ছিলেন তিনি।
জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের ছিলেন। বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে তিনি মেধা তালিকায় ২য় স্থান অধিকার করেন। তিনি একজন আদর্শবান শিক্ষকের সন্তান। শুধু কর্মস্থলে নয়, নিজ এলাকা পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার সকল শ্রেণি -পেশার মানুষের কাছেও তিনি সকলের প্রিয় মানুষ, প্রিয় ব্যক্তিত্ব।

ঝালকাঠিতে বারবার ফিরে আসুক মাহমুদ হাসান। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ুক এমন মানিবক মাহমুদ হাসান। তবেই সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকবে। মাহমুদ হাসানের প্রতি এমন অভিব্যক্তি সমগ্র জেলাজুড়ে।

সত্যিকার অর্থেই তিনি একজন মানবিক পুলিশ। কর্মকালে ঝালকাঠিবাসীকে তিনি পরম মমতায় সেবা দিয়েছেন। বিদায়লগ্নে হাজার হাজার মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানাতে এসেছেন তার কার্যালয়ে।
বিদায় বলে নিজেও অশ্রুসিক্ত নয়নে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এ বিদায়ী কর্মকর্তা।