সূচকের মূল্য সংশোধন, ডিএসইর লেনদেন কমেছে ৩৭ শতাংশ

37

বিদায়ী সপ্তাহের সূচকের ওঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। প্রথম তিন কার্যদিবস সূচকের পতন হলেও শেষের দুই কার্যদিবস উত্থানে শেষ হয়েছে লেনদেন।

তবে, সূচকের উত্থান-পতনে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন কমেছে ৩৭ শতাংশ।

একইসঙ্গে বাজার মূলধনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসই ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। সূচকের পতন ও লেনদেন কমাকে বিনিয়োগকারীরা বলছেন বাজারে মূল্য সংশোধন। তবে, বিদায়ী সপ্তাহে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন বেড়েছে ৮ শতাংশ।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সূচকের টানা উত্থান হয়েছে পুঁজিবাজারে। লেনদেন ৭শ কোটি থেকে উঠে আড়াই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হয়েছে।

পুঁজিবাজারে উত্থানের পর সাময়িক পতনও এক স্বাভাবিক ঘটনা, যেটি বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন বাজার সংশোধন।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি শুরুর পর্যন্ত টানা উত্থানে ছিল পুঁজিবাজার। এ সময় সূচকের সঙ্গে লেনদেনেও ব্যাপক উত্থান হয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা প্রফিট ট্রেকিং করেছে। তাই বাজার কিছুটা নেতিবাচক হওয়াটা স্বাভাবিক। এটা বাজারে মূল্য সংশোধন বলে তিনি মনে করেন।

টানা দুই মাস উত্থানে ছিল পুঁজিবাজার। এসময় লেনদেন ৭শ কোটি থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এরকম উত্থানে পর সামান্য পতন এটি স্বাভাবিক বলে জানালেন মা সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী মো. মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসায় বাজারে লেনদেনের ব্যাপক উত্থান হয়েছে।

টানা উত্থানের পর বাজারে মূল্য সংশোধন হওয়া এটা স্বাভাবিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ৮৪ হাজার ১২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩০৪ কোটি ৪২ লাখ ৩৬ হাজার টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বিনিয়োগকারীরা ৪ হাজার ৭০৮ কোটি ২২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বাজার মূলধন হারিয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩ হাজার ৭৫২ কোটি ৪২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের সপ্তাহ থেকে ২ হাজার ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বা ৩৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৬ হাজার ১৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার।

ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছে ৭৫০ কোটি ৪৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকার। আগের সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২০৩ কোটি ২৫ লাখ ৯২ হাজার ৭২১ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে গড় লেনদেন ৪৫২ কোটি ৭৭৭ লাখ ৪৪ হাজার ২২১ টাকা কম হয়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৬ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৪৭ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২০ দশমিক ০৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১২৬১ দশমিক ৩০ পয়েন্টে এবং ২১৭৩ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৬৫টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৭টির, কমেছে ২১৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৯টির শেয়ার ও ইউনিট দর।

গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৮ দশমিক ৯ পয়েন্টে। যা সপ্তাহ শেষে ১৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও শূন্য দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক৭২ শতাংশ কমেছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘এ’ ক্যাটাগরির বা ভালো কোম্পানির অবদান ছিল ৬৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। এছাড়া ‘বি’ গ্রুপের ২২ দশমিক ২০ শতাংশ, ‘জেড’ গ্রুপের দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ অবদান ছিল।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বেক্সিমকো, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, রবি, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সামিট পাওয়ার, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৪ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২৬৬ কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮৮ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ২৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৬ টাকা বা ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৪৪ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩৩১ দশমিক ১৪ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২৯৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫২টির বা ১৭ দশমিক ৬৩ শতাংশের দর বেড়েছে, ১৮৩টির বা ৬২ দশমিক ৩ শতাংশের কমেছে এবং ৬০টির বা ২০ দশমিক ৩৪ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।