রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার ভ্যাকসিন দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন ও প্রদান অনুষ্ঠিত

31

আখতার হোসাইন খান

লক্ষ্মীপুরে রায়পুরে প্রশাসন -পুলিশ -স্বাস্থ্য-রাজনৈতিক নেতা – শিক্ষিকাকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার ভ্যাকসিন দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন ও প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার সকালে (৭ ফেব্রুয়ারী) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বারিন্দায় হাসপাতালের সামনে ইউএনও, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, অফিসার ইনচার্জ, এসিল্যান্ড, শিক্ষিকা, চেয়ারম্যানের শরীরে টিকা দেয়ার মাধ্যমে এর কার্যক্রম উদ্ধোধন করা হয়েছে।

কার্যক্রম উদ্ধোধনের আগে টিকা সংরক্ষণ, টিকা দেয়া, টিকা কেন্দ্র পরিচালনা, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ সব বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

টিকা সর্বপ্রথমে গ্রহণ করেন ইউএনও সাবরীন চৌধুরী, রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জলিল, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃজাকির হোসেন, রাজনৈতিক নেতা সাবেক মেয়র বাবুল পাঠান, শিক্ষিকা মারিয়া মুন্নী সহ অনেকেই।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ইউএইছএফপিও ডাঃ জাকির হোসেন জানান, রোববার সকাল থেকে সদরসহ ৫ উপজেলার হাসপাতালে টিকা দেয়া শুরু করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় রায়পুরে সব প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপাশি টিকার ব্যাপারে মানুষকে আগ্রহী করতে নিজেরা টিকা নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি ।

সিভিল সার্জন আবদুল গফ্ফার বলেন,-“আমরা ৬০ হাজার ডোজ টিকার মধ্যে প্রথম ধাপে ৩০ হাজার ডোজ দিবো। বাকি ৩০ হাজার দ্বিতীয় ধাপে (এক মাস পর) দিবো।-টিকা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। টিকা দেয়ার পর ৩০ মিনিট অবজারভেশনে রাখতে হয়। সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৬১৩১ ব্যাক্তি রেজিষ্ট্রশান করেন ও ২’শ জন টিকা গ্রহন করেন।

এসময় ৫৫ বছরের বেশি যাদের বয়স তাদেরকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার থেকে ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে সব ব্যক্তিদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

জেলা সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টিকা নিতে আগ্রহীদের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অর্থাৎ নাম, ঠিকানা, বয়স, পেশা, শারীরিক পরিস্থিতি, জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর এবং ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

কারণ নিবন্ধন ছাড়া টিকা দেয়া যাবে না। বিভিন্ন কারণে যারা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারছেন না তাদের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে তথ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে স্পট রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যারা অনলাইন নিবন্ধন করেও টিকার তারিখ ও কেন্দ্রের বিষয়ে এসএমএস পাননি তারা শনিবার রাতের মধ্যেই মেসেজ পেয়ে গেছেন এবং কালকে না হলেও তারা অন্য যেকোনো দিন টিকা দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিভিল সার্জন আরো বলেন, সদরসহ ৫ উপজেলার ইউএনও, এসিল্যান্ড, ওসিসহ সরকারি কর্মকর্তাকে টিকা দেয়ার পর সম্মুখ-সারির বিভিন্ন পেশার মানুষ অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, প্রশাসন ও যাদের বয়স ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে তাদেরকে বিনামূল্যে টিকা দেয়া হয়।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত টিকা কার্যক্রম চলবে। হাসপাতালের নার্সদের সাথে-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে নেতৃত্বে কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবক।