সরকারের সমালোচনার জেরে গ্রেফতার তুরস্কে ১০ অ্যাডমিরাল

2

বসফরাস প্রণালীতে তুর্কি সরকারের একটি নতুন প্রকল্পের বিরোধীতা করে বিবৃতি দেয়ায় দেশটির নৌবাহিনীর ১০ জন সাবেক অ্যাডমিরালকে আটক করা হয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

গত শুক্রবার তুরস্কের ১০৪ জন উচ্চপদস্থ অবসরপ্রাপ্ত নৌকর্মকর্তা এক বিবৃতি দেন। সেখানে বলা হয়, ক্যানাল ইস্তাম্বুল নামের এই প্রকল্পের ফলে মন্ট্রিক্স কনভেনশন হুমকির মুখে পড়বে এবং বসফরাস ও দার্দানেলেস প্রণালীতে তুরস্কের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে।

তারা বলেন, ‘আমাদের মতামত এমন কোনো কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকার যা মন্ট্রিক্স চুক্তিকে বিতর্কের বস্তুতে পরিণত করে।’

১৯৩৬ সালে মন্ট্রিক্স কনভেনশনে স্বাক্ষরিত হয়। এতে বলা হয়, বসফরাস প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হলেও তুরস্ক এই পথ দিয়ে কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের দেশ ব্যতীত অন্য সব দেশের নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এর ফলে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।

ক্যানাল ইস্তাম্বুল প্রকল্পে একটি বিশাল খাল খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে যা ইস্তাম্বুলের উত্তরে অবস্থিত কৃষ্ণ সাগরের সঙ্গে দক্ষিণের মর্মর সাগরকে সংযুক্ত করবে। বসফরাস প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের আধিক্য কমাতে এই খাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। এতে খরচ হবে ৯২০ কোটি ডলার। প্রকল্পের এই বিপুল অর্থ ও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও চলছে সমালোচনা।

তবে সাবেক নৌকর্মকর্তাদের বিবৃতিকে বেসামরিক সরকারের প্রতি সরাসরি সামরিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে তুরস্ক। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেছেন, এই বিবৃতিতে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি সামরিক চক্রান্তের বৈশিষ্ট্য ছিল।

তিনি বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের একটি দল তাদের বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদেরকে হাস্যকর ও করুণ পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। এই বিবৃতি তাদের সামরিক অভ্যুত্থানের সময়কে প্রতিফলিত করছে।’

এই বিবৃতির তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন আরও চারজনকে তিনদিনের মধ্যে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তুর্কি সেকুলার সংবিধানের সংরক্ষক হিসেবে নিজেদের বিবেচনা করা সামরিক বাহিনী ১৯৬০ সাল থেকে দেশটিতে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে তিন দফা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটনার চেষ্টা করা হলে তুর্কি জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে তা ব্যর্থ হয়।