নির্বাচনে সেনা বাহিনী নীরব দর্শক, অভিযোগ মমতার

0

রাজ্যের তৃতীয় দফার নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটের দিন ট্যুইট করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর ট্যুইটে লিখেছেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ জানিয়ে গেছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী নীরব দর্শক হিসেবে তৃণমূলের লোকজনদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার দৃশ্য দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। তৃণমূল ভোটারদের বাধা দিয়ে অন্য একটি দলকে ভোটদানে সহায়তা করছে বাহিনী।” এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ট্যুইটে করা অভিযোগকে গুরুত্বহীন বলে সমালোচনা করেছেন সিপিএম নেতা রবীন দেব।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল পড়ে গেছে। কেননা সকাল থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতে বিভিন্ন বুথে ভোটাররা যে অভিযোগ করছেন তাতে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ফুটে উঠেছে। সোমবার রাতে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, ক্যানিং, মগরাহাট বিধানসভার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে বলেছে, ভোট দিতে গেলে হাত, পা ভেঙে দেওয়া হবে। এই অভিযোগ সকাল থেকে এই জেলার মানুষরা করছেন। কোনও কোনও এলাকা থেকে এইএসএফ-এর নামেও এই অভিযোগ আসছে।

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ট্যুইটের সমালোচনা করে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবীন দেব বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের কোনও গুরুত্ব নেই। তিনি এসব বলছেন কেন? আজ রাজ্যের যে তিন জেলায় নির্বাচন হচ্ছে তাতে ২০ হাজার রাজ্য পুলিশ আছে। বাকিটা কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কী করছে ? গতকাল রাত থেকে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বিভিন্ন জায়গায় , বাড়িবাড়ি গিয়ে হামলা চালাচ্ছে। আসলে প্রতিটা নির্বাচনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা ইস্যু খুঁজে নেন। আজকের আবার ট্যুইট করে এসব বলছেন।এসব হচ্ছে তৃণমূল এবং বিজেপি-র মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং। আমাদের প্রশ্ন তাহলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী? কেননা রাজ্য পুলিশের কাজ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গাইড করা। তাই রাজ্য পুলিশ একদিকে তৃণমূলকে সুবিধা করে দিচ্ছে। যার ফলে কেন্দ্রীয় বাহিনী অশান্তি থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর নির্বাচন কমিশন ক্ষেত্র বিশেষে বিজেপিতে সহযোগিতা করছে।”