সুজাতাকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করার উল্লেখ কেন নেই রিপোর্টে, পুলিশকে প্রশ্ন কমিশনের

0

আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডলের উপর হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট জমা দিয়েছে জেলা পুলিশ। জানা গিয়েছে, সেই রিপোর্টে সুজাতাকে বাঁশ নিয়ে তেড়ে যাওয়ার ঘটনার উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মঙ্গলবার দিনভর সুজাতা মণ্ডলকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করার ভিডিও দেখা গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সেই ফুটেজের প্রসঙ্গ তুলে ধরেই এবার পুলিশকে সুজাতা-কাণ্ডে পাল্টা প্রশ্ন কমিশনের।

আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডল। মঙ্গলবার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে গিয়ে আক্রান্ত হন সুজাতা। তাঁকে ঘিরে ধরে লাঠি, বাঁশ নিয়ে চড়াও হয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা, যাঁদের মধ্যে বেশ কিছু মহিলাও ছিলেন। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়েই এদিন একটি বুথের কাছে চলে যান সুজাতা। ঠিক সেই সময় তাঁকে বাধা দেন স্থানীয় গ্রামবাসীদের একটি বড় অংশ। বাঁশ, লাঠি, চেলা কাঠ হাতে নিয়ে তাড়া করতে দেখা যায় গ্রামবাসীদের। নিরাপত্তরক্ষীরা তাঁকে ঘিরে থাকলেও সংবাদমাধ্যমের ফুটেজে দেখা গিয়েছে বাঁশের ঘা পড়েছে সুজাতার মাথায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেখেই সুজাতাকে টেনে নিয়ে জমির আল ধরে এরপর দৌড়তে শুরু করেন তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা। সেখানেও তেড়ে যান গ্রামবাসীরা।

এরপর গাড়িতে উঠে সেই এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যান সুজাতা। তবে কিছুদূর যেতেই পের বাধার মুখে পড়েন তিনি। তাঁর গাড়ি গিরে ধরে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গ্রামের মহিলারা। গাড়ি লক্ষ্য করে মুড়ি-মুড়কির মতো ইটবৃষ্টি শুরু হয়। কয়েকজন বাঁশ নিয়ে গিয়ে গাড়ির কাচে আঘাত করতে থাকে। সুজাতার অভিযোগ, বুথ দখলের অভিযোগ কানে আসতেই তিনি ওই বুথে গিয়েছিলেন। বুথের কাছে পৌঁছতেই তাঁর উপরে হামলা করেন বিজেপি কর্মীরা। তাঁকে খুনের চেষ্টা হয় বলে দাবি তাঁর। একজন মহিলা প্রার্থীকে বিজেপি ভয় পেয়ে গিয়ে তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ সুজাতার। যদিও পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে সুজাতার উপর হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সুজাতার উপর হামলার ঘটনায় গতকালই রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন। পুলিসের তরফেও কমিশনকে ঘটনার রিপোর্ট পাঠানো হয়। তবে জানা গিয়েছে, পুলিশের পাঠানো সেই রিপোর্টে সুজাতা মণ্ডলকে বাঁশ নিয়ে তেড়ে যাওয়ার ঘটনার উল্লেখ করা হয়নি। সাংবাদমাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ফুটেজ সম্প্রচার হওয়ার পরেও সেই ঘটনার উল্লেখ রিপোর্টে কেন নেই, পুলিশের কাছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন।