মিয়ানমারে ফিরলো প্রথম রোহিঙ্গা পরিবার

1
0

প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার প্রস্তুত নয় এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই ৫ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবার রাখাইনে ফিরে গেছে।

মিয়ানমার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার সকালে পাঁচ সদস্যদের একটি মুসলিম পরিবার রাখাইনের তাউনপিওলেতউইয়া অভ্যর্থনা সেন্টারে পৌঁছেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, অভিবাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ফিরিয়ে নিয়েছে। সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের চাল, মশারি, কম্বল ও পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসনের জন্য যাচাই-বাছাই শেষে ওই পরিবারকে মিয়ানমারে প্রবেশের আগেই ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি মুসলমান’ আখ্যা দিয়ে দমন-পীড়ন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের পথে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে।

বিভিন্ন সংস্থার জরিপ মতে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দুই বছরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মিয়ানমার রাখাইনে দুটি অভ্যর্থনাকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এগুলোকে অস্থায়ী শিবির নামে ডাকছে মিয়ানমার। তবে সেখানে বহুল প্রতীক্ষিত ও বিরল সফর শেষে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও তৈরি নয় রাখাইন। সরেজমিন বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখে এবং সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল উরসুলা মুয়েলার এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

৬ দিনের সফর শেষে উরসুলা মুয়েলার সংবাদমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতূলতা, নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আর অব্যাহত স্থানচুত্যির ঘটনা ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। এই পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার জন্য সহায়ক নয়। ভবিষ্যতেও প্রত্যাবাসন আদতে সম্ভব কিনা, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তবে জাতিসংঘের এই সংশয়কে আমল না নিয়ে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here