গাজীপুরে জাপার সমর্থন পাচ্ছেন আ.লীগের জাহাঙ্গীর

4
0

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির জোটের গুঞ্জনের মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী না দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিতে যাচ্ছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।
গত কয়েক দিন ধরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দেয়ার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টির গাজীপুরের নেতারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

গাজীপুর পৌরসভা এবং সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন বিলুপ্ত করে এবং টঙ্গী পৌরসভা মিলিয়ে গঠিত হয়েছে সিটি করপোরেশন। পোশাক কারখানা অধ্যুষিত এই অঞ্চলটিতে বৃহত্তর রংপুরের বিপুল পরিমাণ শ্রমিক কাজ করেন, যাদের একটি বড় অংশ এই এলাকার ভোটার হয়েছেন।

রংপুর অঞ্চলের এই শ্রমিকদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় এবং দলের আনুষ্ঠানিক সমর্থন তাই যে কোনা প্রার্থীর জন্য সুখকর হতে পারে। টঙ্গীতে নানা সময় জাতীয় পার্টির ‍উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছেন।

গাজীপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে জাহাঙ্গীর আলমকে। গত ১২ এপ্রিল প্রার্থিতা জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র পদে নয় জনের প্রার্থিতা টিকেছে। এই নয় জনের মধ্যে নেই জাতীয় পার্টির কেউ।

নির্বাচনে মূলত লড়াই হবে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম এবং বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকারের মধ্যে।

আশির দশকে টঙ্গীতে জাতীয় পার্টির দাপুটে নেতা ছিলেন হাসান। এরশাদ সরকারের পতনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তবে তিনবার সংসদ নির্বাচনে টঙ্গী আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে হেরেছেন তিনি।

বিএনপি আশা করছে হাসান উদ্দিন সরকার তার পুরনো দল জাতীয় পার্টির সমর্থকদের ভোট বাগিয়ে নিতে পারবে। তবে গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন আর্মি ঢাকাটাইমসকে জানিয়েছেন, তারা জাহাঙ্গীরকে সমর্থন দিচ্ছেন।

জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘দলীয়ভাবে আমরা গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কোন প্রার্থী দিচ্ছি না। তবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন জানানোর জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

‘বুধবার (আজ) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ মহানগর জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে ডেকেছেন। ইনশাআল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থনের বিষয়টি তখন ঘোষণা হবে।’

কেন্দ্র থেকে ঘোষণা আসলে পার্টির স্থানীয় সর নেতা কর্মীই সে অনুযায়ী কাজ করবে জানিয়ে গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘সংগঠন করতে হলে অবশ্যই আদেশ মানতে হবে। পার্টি যাকে সমর্থন দিবে প্রত্যেকটা নেতাকর্মী তার পক্ষেই নির্বাচনের মাঠে কাজ করবে।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া না হলে কাউন্সিলর পদে বেশ কয়েকজন প্রার্থী আছে। মহানগরের ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে চারটিতে সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলের একটি পদে দলের প্রার্থী আছে। মেয়র পদে সমর্থন দেয়ার বিনিময়ে এসব কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের ছাড় আশা করছে জাতীয় পার্টি।

গাজীপুরে জাতীয় পার্টির এই সমর্থন ভোটে ব্যাপকভাবে কাজ লাগবে বলে আশাবাদী আওয়ামী লীগ। জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয়ভাবে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জেনেছি।  এরশাদ সাহেব গাজীপুরে তাদের প্রার্থী দেবেন না আগেই জানিয়েছেন। সুতরাং আমরা আশাবাদী জাতীয় পার্টি আমাদেরকে সমর্থন দেবে।’

তবে এ বিষয়ে এখনও জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কোন কথা হয়নি জানিয়ে আজমত বলেন, ‘প্রতীক বের হলে আমরা সকলে বসব। শুধু জাতীয় পার্টি নয়, মহাজোটের শরিক দলের সকল নেতৃবৃন্দের সাথে আমরা আলোচনা করব। আমাদের স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেল দেশের বাইরে ছিলেন, তিনি দেশে ফিরেছেন। তাকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সকলের সমর্থন নিয়ে নৌকার প্রার্থীকে আমরা বিজয়ী করব।’

আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় জোটবদ্ধ হয়। ২০০৭ সাল বাতিল হওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে এই দুই দলের পাশাপাশি বর্তমানে বিএনপির শরিক এলডিপি, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা এবং ১৪ দল মিলিয়ে গঠন হয় মহাজোট।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এলডিপি ও বিকল্পধারাকে বাদ দিয়ে মহাজোট নির্বাচন করে ভূমিধ্বস জয় পায়। তবে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টি মহাজোট ছেড়ে দেয়।

আর ওই নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে জাতীয় পার্টিতে নানা নাটকীয়তা হয়। এরশাদের নেতৃত্বে দলের একটি অংশ ভোট বর্জনের কথা বললেও ভোট যায় তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে একটি অংশ। আর ভোট শেষে রওশন হন বিরোধীদলীয় নেতা। এরশাদ হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এলে আবারও ২০০৮ সালের মতো আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি জোটবদ্ধ হবে বলে ঢাকাটাইমসকে জানিয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শ্রম প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু।

সম্প্রতি একটি বক্তব্যে এরশাদ বলেছেন, আগামী নির্বাচনে তাদেরকে ৭০টি আসনে সমর্থন এবং ১০ থেকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ছেড়ে দিলে তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here