পলিথিনের মতোই ক্ষতিকর টিস্যু পলিথিনও

25
0

পরিবেশ দূষণ রোধে পলিথিনের অবৈধ উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদীরা। একই সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে ‘চেঞ্জ দ্য আর্থ ফর পিপল’ (সেপ) আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এমন দাবি করেন।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বন অধিদফতরের সাবেক প্রধান সংরক্ষক ইউনুছ আলী বলেন, আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা অবাধে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছেন। বর্তমানে পলিথিনের কাঁচামাল দিয়ে এক ধরনের টিস্যু পলিথিন উৎপাদন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, উৎপাদনকারীরা বলছে এটা পরিবেশবান্ধব। কিন্তু পলিথিনের মতোই টিস্যু পলিথিন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই সঙ্গে পলিথিনের কাঁচামালের অপব্যবহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ ও বিকল্প পরিবেশবান্ধব কাগজ, চট বা কাপড়ের শপিং ব্যাগ ব্যবহারের জনসচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারণার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন ভুইয়া বলেন, এক জরিপে দেখা গেছে ঢাকা শহরে একটি পরিবার প্রতিদিন চারটি করে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। সে হিসেবে শুধু ঢাকা শহরে প্রতিদিনই দুই কোটির বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেয়া হয়। এগুলো নালা-নর্দমা, খাল, ডোবা ইত্যাদি ভরাট করে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা প্রকোপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, পলিথিন একটি নীরব ঘাতক। শত শত বছর পড়ে থাকলেও মাটির সঙ্গে মিশে যাবে না। আর নগরজীবনের পলিথিনে সবচাইতে ক্ষতিকারক দিক হলো যত্রতত্র ফেলে রাখলে তাতে নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাঘাত ঘটায়। ঢাকা শহরে পয়ঃনিষ্কাশনের 80 ভাগ ড্রেন পলিথিন ব্যাগে জমাট বেঁধে আছে আর এইসব রোধ করতেই পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, পলিথিনের স্তর নদীর তলদেশের পলি আটকিয়ে শুধু নদীর নাব্যতাই নষ্ট করছে না বরং জীববৈচিত্রও ধ্বংস করে। পানিতে স্বাভাবিক অক্সিজেনের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস করছে। পলিথিন অপচনশীল বলে যত্রতত্র পলিথিনের ব্যবহার জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি আবু জাফর মল্লিক, অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন ভূইয়া, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আফতাব আহমেদ প্রমুখ।