ইডেন কলেজের ছাত্রীকে এসিড নিক্ষেপের মামলায় ; যাবজ্জীবন

3
0

ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে এসিড নিক্ষেপের মামলায় মনির উদ্দিন নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ও এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রদীপ কুমার রায় এ রায় ঘোষণা করেন।

একই সঙ্গে এসিড নিক্ষেপের পর ছুরিকাঘাত করায় ওই আসামির আরও দুই বছরের কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তার আরো তিন মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ে এসিড নিক্ষেপের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ওই আসামির এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে। যা ভিকটিমকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোছা. শারমিন আক্তার ওরফে আঁখি। তিনি রমনার পূবালী সরকারী অফিসার্স কোয়ার্টার সার্কিট হাউজ রোডে বড় ভাই ফখরুদ্দিন আহমেদের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন। কলেজে যাওয়া-আসার পথে মনির উদ্দিন প্রায় আঁখিকে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিত। এ বিষয়ে মনিরের মা আলফাজ খানম, বোন কানিজ , শিউলী, রুপা , ভাই নিজাম  ও তার ভœিপতিকে অবগত করা হয়। কিন্তু তারা বিষয়টি কর্ণপাত করেনি ও গুরুত্ব দেয়নি।

২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি আঁখি কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে চানখারপুল মোড়ে পৌঁছালে মনিরের বন্ধু মাসুম আঁখিকে জোর করে নাজিমুদ্দিন রোডে কাজী অফিসে নিয়ে যায়। মনির আঁখিকে বিয়ে করতে চায়। আঁখি রাজি না হওয়ায় মনির তার মাথায় এসিড ঢেলে দেয়। এরপর হত্যার উদ্দেশ্যে আঁখিকে ডান হাতের কব্জিতে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে। এসিডে আঁখির মাথা ও মুখমন্ডল মারাত্মক দগ্ধ হয়।

ওই ঘটনায় ওইদিনই আখির ছোঁট ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ বংশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ মনির ও মাসুমের নামে পৃথক দুইটি আইনে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার বিচারকাজ চলাকালে আদালত বিভিন্ন সময় ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here