২ মামলায় এমপি আমানুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

2
0

ক্রাইম নিউজ, টাঙ্গাইল : আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খানকে (রানা) দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল সদর ও ঘাটাইল আমলি আদালতে পুলিশ পৃথক দুটি আবেদন করে। আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সংসদ সদস্য আমানুর রহমান। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

যুবলীগ নেতা মো. শামীম ও মো. মামুন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ সংসদ সদস্য আমানুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। টাঙ্গাইল সদর আমলি আদালতে এই আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুম আবেদন গ্রহণ করে আগামী ৯ মে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

অন্যদিকে ঘাটাইল জিবিজি কলেজের ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদ রুবেলকে হত্যাচেষ্টার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুল ইসলাম সংসদ সদস্য আমানুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আরেকটি আবেদন করেন। ঘাটাইল আমলি আদালতে করা এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়া আগামী ১০ মে আবেদনের শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেছেন।

দুই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে বলেছেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে জেলহাজতে আটক আমানুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে পরে আমানুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আদালতে করা আবেদনে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ জানিয়েছেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা ছিলেন শামীম ও মামুন। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন তাঁরা। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার খন্দকার জাহিদ গত বছর ১১ মার্চ, শাহাদত হোসেন ১৬ মার্চ এবং হিরন মিয়া ২৭ এপ্রিল, ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তাঁরা বলেছেন, সংসদ সদস্য আমানুরের দিক নির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করা হয় এবং তাঁদের লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে ঘাটাইলের ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদ রুবেলকে হত্যাচেষ্টার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম আবেদনে জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর রাতে একদল সন্ত্রাসী আবু সাঈদকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আব্দুল জব্বার বাবু ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে আব্দুল জব্বার বলেছেন, কারাগার থেকে সংসদ সদস্য আমানুরের নির্দেশ অনুযায়ী সাঈদকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলায় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তাঁর ভাইদের জড়িত থাকার তথ্য বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। ফারুক হত্যা মামলায় আমানুরের তিন ভাইসহ মোট ১৪ জন আসামি রয়েছে। টাঙ্গাইল প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here