পার্বত্য চট্টগ্রামে রক্তপাতে বিএনপির জড়িত থাকার ইঙ্গিত পেয়েছেন ওবায়দুল কাদের

26
0

পার্বত্য চট্টগ্রামে রক্তপাতে বিএনপির জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছে বিএনপি সব আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে, কোটা আন্দোলন নিয়েও তাদের চক্রান্ত সফল হয়নি। এ কারণে এখন পাহাড়ে ঢুকেছে।

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে বৃহস্পতি ও শুক্রবার উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ছয় জন নিহতের পর শনিবার চট্টগ্রামে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় কথা বলেন কাদের। এ সময় তিনি পাহাড়ের এই ঘটনাটি সামনে আনেন।

আগের দিন রাজধানীতে এক আলোচনায় পাহাড়ের ঘটনায় মতলবি মহলের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা। আর আজ বিএনপির নাম নিলেন তিনি।

গত কয়েক বছর ধরেই পাহাড়ে বিভিন্ন সংগঠন ও উপদলের মধ্যে বিরোধে খুনোখুনি বেড়েই চলেছে। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে আবার অশান্ত হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা। গত পাঁচ মাসে নিহত হয়েছেন ১৭ জন। আর অপহরণের শিকার হয়েছেন অনেকে।

গত ৩ মে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে মোটর সাইকেলে করে উপজেলা সদরে ঢুকার সময় গুলি করে হত্যা করা হয়। আহত হন চালকও।
পরদিন শক্তিমানের শেষকৃত্যে যোগ দেয়া পাঁচ জনকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। আর এই ঘটনায় পাহাড় নিয়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।

পাহাড়ে শান্তিচুক্তি বিরোধী বিভিন্ন উপদলের বিরোধে গত কয়েক বছর সেখানে উত্তেজনা চলছে। তবে কাদের জানান, তারা এই সংঘাতে বিএনপির সম্পৃক্ততা পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, অন্য আন্দোলনের পাশাপাশি কোটা আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর বিএনপি এখন পাহাড়কে ‘ধরছে’।

‘সেখানকার যে বিভেদ, রক্তপাতের মধ্যেও তারা ঢুকে পড়েছে এরকম ইঙ্গিত আমরা পাচ্ছি। এটা আমাদের সর্তক থাকতে হবে।’

গত নির্বাচনের মতো আগামী জাতীয় নির্বাচনও বিএনপির জন্য আটকে থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন কাদের। বলেন, ‘বেগম জিয়াকে ছাড়া আসবে না। না গেলে কী হবে? আকাশ ভেঙে পড়বে বাংলাদেশের রাজনীতির উপর? বিএনপি নির্বাচনে না এলে বাংলাদেশে সংবিধান পরিবর্তন হবে না। থ্রেট করে লাভ নেই।’

বিএনপির আন্দোলনের হুমকিকেও পাত্তা দিচ্ছেন না কাদের। বলেন, ‘নয় বছরে পারেনি, আর নয় মাসে কী হবে?’

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরকে নতুন ‘শেখ হাসিনার সরকার, আরেকবার দরকার’ স্লোগান দেয়ারও আহ্বান জানান কাদের।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কেন্দ্রীয় উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।