চার জেলায় বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু

5
0

  ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে প্রতিদিনই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সরকারি হিসেবে মার্চ-এপ্রিল দুই মাসে বজ্রপাতে ৭০ জন নিহত হয়েছে।

শেরপুর, সুনামগ‌ঞ্জে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বজ্রপাতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন তিনজন। সোমবার (৭ মে) ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

শেরপুর:

শেরপুরে পৃথক বজ্রাঘাতে স্কুলছাত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল আটটা থেকে বেলা এগারোটার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।

সকাল আটটার দিকে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বজ্রাঘাতে শারমিন (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং হালুয়াঘাট উপজেলার পাঘারিয়া গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে। সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়ও একই উপজেলার বাঘবেড় গ্রামে বজ্রাঘাতে দুটি গরু মারা গেছে।

এছাড়াও শেরপুর সদর উপজেলার হালগড়া গ্রামে আব্দুর রহিম (৪০) নামে এক কৃষকের বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে। বেলা পৌনে এগারোটার দিকে তিনি মাঠে ধান কাটছিলেন। এসময় বজ্রাঘাত হলে তার মৃত্যু হয়। নিহত রহিম সদর উপজেলার হালগ্রামের আকু শেখের ছেলে। শেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সকাল পৌনে দশটার দিকে নকলা উপজেলার মোজারচর গ্রামে শহিদুল ইসলাম (২৬) নামে এক যুবক মাঠ থেকে কাটা ধান নিয়ে বাড়ি আসার পথে বজ্রাঘাতে মারা যান। নিহত শহিদুল ইসলাম নকলা উপজেলার মোজারচর গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে।

নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎক রবিউল ইসলাম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সুনামগ‌ঞ্জ:

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরে ধান মাড়াই করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত হয়েছ্নে। নিহত নবকুমার দাস (৬৫) উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা।

শাল্লা থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরে ধান মাড়াই করার সময় বজ্রপাতে নবকুমার আহত হন। পরে স্থানীয়রা তা‌কে উদ্ধার করে দিরাই উপ‌জেলা স্বাস্থ্যকে‌ন্দ্রে নি‌য়ে গেলে সেখানে কতর্ব্যরত চি‌কিৎসক মৃত ‌ঘোষণা ক‌রেন।

হবিগঞ্জ:

হবিগঞ্জের বানিয়াংয়ের দৌলতপুর ইউনিয়নে বজ্রপাতে দুই ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও একজন।

নিহতরা হলেন উপজেলার কবিরপুর গ্রামের নাদু বৈষ্ণবের ছেলে ধানকাটা শ্রমিক অধীর বৈষ্ণব (২৭), তেলঘরি গ্রামের বীরেশ্বর বৈষ্ণবের ছেলে বসু বৈষ্ণব (৩২)।

আহত কৃষ্ণধন বৈষ্ণব (৩২) তেলঘরি গ্রামের হরিচরণ বৈষ্ণবের ছেলে। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় বৃন্দাচিত্তা হাওরে কয়েকজন শ্রমিক বৃষ্টির মধ্যে ধান কাটতে যান।

‘এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই অধীরের মৃত্যু হয়।আর গুরুতর অবস্থায় বসুকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎস তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

পরে কৃষ্ণধনকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয় বলে লুৎফুর জানান।

নিহতদের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার জানান।

মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজার সদর ও শ্রীমঙ্গলে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও দুইজন।

সোমবার সদরের খলিলপুর ইউনিয়নের খলিলপুর গ্রামে ও শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ইউনিয়নের হাইল হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার খলিলপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু সামাদ (১৫) এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার বরুনা গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে মফিজ মিয়া (৩০)।

আহত রশীদ মিয়া (৩৬) ও মো. রফিক মিয়াকে (৬০) মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খলিলপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আবু বক্কর বলেন, সকালে ধান ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই আবু সামাদের মৃত্যু হয়।

কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রজমান মজুল বলেন, দুপুরে হাইল হাওরে বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে মফিজ মিয়ার মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হন তার ভাই রশীদ মিয়া (৩৬) ও মো. রফিক মিয়া (৬০) নামে এক কৃষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here