মাদকবিরোধী অভিযানে আরো সতর্কতা অবলম্বনের সুপারিশ ,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

32
0

চলমান মাদক বিরোধী পরিচালনায় আরো সতর্কতা অবলম্বনের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত মাদক কারবারিদের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জবাবে ওই তালিকা সঠিক নয়-এ দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৫টি গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করা সর্বশেষ তালিকা ধরে অভিযান চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি। বৈঠকে কমিটির সদস্য মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মো. ফখরুল ইমাম ও বেগম কামরুন নাহার চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে মাদকবিরোধী চলমান অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মো. ফখরুল ইমাম। এর আগে কমিটির সভাপতি এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযানের সুপারিশ আগেই করা হয়েছিলো। এই অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

এ সময় মাদক কারবারিদের তালিকা সম্পর্কে বলা হয়, ৫টি গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তালিকা থেকে অন্তত তিনটি তালিকায় যাদের নাম এসেছে তাদেরকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। আর সেই তালিকা অনুযায়ী অভিযান চলছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য মো. ফখরুল ইমাম কালের কণ্ঠকে বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে চলমান অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে আরো সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। যাতে নিরীহ একজনও হয়রানির শিকার না হন। এছাড়া এই অভিযানের কারণে কোনও বাহিনী যাতে বিতর্কিত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

কোনও কোনও ক্রস ফায়ারের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামীতে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে মাদক অভিযানের সময় আক্রমণ বা পাল্টা আক্রমণে যদি কেউ মারা যায় তাহলে তো কিছু করার নেই। তবে কোনও নিরীহ মানুষ যেন এর শিকার না হয় তার জন্য আমরা সাবধান হতে বলেছি।

এ ছাড়াও উক্ত বৈঠকে জানানো হয়েছে, মালেশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে গত ৫ মাসে  ৬৭ হাজার ৭৫১টি পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ৬ হাজার ৭২৬ টাকা। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে প্রবাসীরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে পাসপোর্ট নবায়ণ করছেন। আর সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গত মাসে ২ হাজার ২৮৬টি এনরোলমেন্ট, ৩ হাজার ৭৯টি পাসপোর্ট প্রাপ্তি এবং ২ হাজার ৭২২ পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। সেখানকার হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং এ কাজ করছে।

কমিটি সূত্র জানায়, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও ভিসা নবায়ণ কাজ আরো গতিশীল ও সহজতর করা এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তা ছাড়াও বৈঠকে গাজীপুর ও রংপুর মহানগরী পুলিশ বিল সংসদে পাস হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। দ্রুততম সময়ে এই দুটি এলাকায় পুলিশের জন্য ব্যারাক নির্মাণ, থানা ভবন নির্মাণসহ আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।