সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা

1
0

রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় মিরপুর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তারা এ ব্যস্ততম সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।

ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ সড়ক অবরোধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে, তাদেরকে ব্যস্ততম এ সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।

বিক্ষোভে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ঢাকা কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজসহ আশপাশের কলেজের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

ঢাকা কলেজ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সায়মন ওয়াহিদ বলেন, বেপরোয়াভাবে বাস চলাচল করার কারণেই নিয়মিত লোক মারা যাচ্ছে। তবে এসব চালকদের কোনো বিচার হচ্ছে না। আমরা বাস চালকসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

সিটি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বাপ্পি কুমার বলেন, আমরা আমাদের ভাই ও বোনের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছি। স্টুডেন্ট ভাড়া না নেয়া থেকে শুরু করে বাসে নানাভাবে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হয়। নামাতে বললে নির্ধারিত জায়গায় বাস থামায় না, হেলপাররাও অসদাচরণ করে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।

এদিকে আজ সকালে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা। সকাল পৌনে ১০টার দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করে।

গতকাল রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিলেন। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় মুখেই দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আরেকটি দ্রুতগতি সম্পন্ন জাবালে নূরের বাস ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিমিষেই ওঠে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর। চাকার নীচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুইজন। এছাড়া আহত হন আরও ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী।

মারা যাওয়া দুইজন হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।

ওই ঘটনায় গতকাল রোববার রাতেই নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৩৩। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী সাহান হক বলেন, মামলার আসামি অজ্ঞাত। তবে মামলার এজহারে দুর্ঘটনার জন্য জাবালে নূর বাসের চালক ও ড্রাইভারকে দায়ী করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here