ঢাকা ১৫ আসনে নির্বাচনী কর্মকান্ড শুরু করছেন গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু

1
0

গোয়েন্দা প্রতিবেদন, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে ঢাকা ১৫ আসনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু।
আওয়ামীলীগ সূত্রে জানা গেছে যারা মনোনয়ন পাবেন, তাদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু, বিষয়টি গোপন রাখতে হবে। অনেকে বলছে, গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুকে ঢাকা ১৫ আসনে মনোনয়নের ব্যাপারে ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচনী কর্মকান্ডও শুরু করেছেন। তিনি বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গিয়ে উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন।
ঢাকা ১৫ আসনের আওয়ামীলীগের প্রায় সকল নেতাই গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুকে সংসদ সদস্য রূপে চাচ্ছে।
এই বিষয়ে ঢাকা ১৫ আসনের অন্তর্গত কাফরুল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহিন আহমেদ জানান, “এটা আমার অপেন চেলেঞ্জ, ব্যালেটের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা যাচাই করা হোক, ঢাকা ১৫ আসনে সাচ্চু ভাইয়ের ৫ ভাগের এক ভাগ ভোট পাবে এমন কোন নেতা নেই।”
শ্রমিক লীগের মহানগর উত্তরের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন তালুকদার জানান, “ঢাকা ১৫ আসনের মানুষ সুখে-দুঃখে যাকে পাশে পায় তার নাম গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। রাত ৩টার সময়ও ঢাকা ১৫ আসনের কেউ বিপদে পড়লে যার কথা মনে করে, তার নাম গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। এই আসনে তার কোন বিকল্প নেই। আমরা সবাই তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।”
শ্রমিক লীগের কাফরুল থানার সাধারণ সম্পাদক মোঃ জালাল জানান, ” আমার সহজ কথা, আমাদের শ্রমিকরা যে কেউ যে কোন সমস্যার মুখোমুখি হলে আমাদের আশ্রয় সাচ্চু ভাই। তার কোন বিকল্প আমাদের কাছে নেই। তাকেই ঢাকা ১৫ আসনের সংসদ সদস্য রূপে দেখতে চাই।”
এই বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কাফরুল থানার সাংগঠনিক সম্পাদক আরশেদ আলী জানান, ” গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু কেন্দ্রিয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হওয়াতে বলছি না,বরং আপনি নিজে ঢাকা ১৫ আসনের যে কোন জায়গায় গিয়ে জনমত জরীপ করুণ। সবাই এক বাক্যে বলবে ঢাকা ১৫ আসনে সংসদ সদস্য রূপে গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুকেই দেখতে চায়।”
ঢাকা ১৫ আসনের অন্তর্গত ১৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম জানান, “ঢাকা ১৫ আসনে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে যে কোন মানদন্ডে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে একটি নাম। সেই নামটি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু।”
একই বিষয়ে ১৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী জানান, ” দলমত নির্বিশেষে সকলে যাকে ভালবেসে নাম দিয়েছে মিরপুরের মাটি ও মানুষের নেতা, তার নাম গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। যে কোন বিচারে তার আসে পাশে আসার যোগ্যতা অন্য কার আছে বলে আমি মনে করি না।”
মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া বলেন, ” গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু শুধু একটি নাম নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠান। সাধারণ মানুষের ভালবাসায় তিনি ধন্য। অবশ্যই ঢাকা ১৫ আসনে তিনি অদ্বিতীয়।”
ঢাকা ১৫ আসনে কাকে সংসদ সদস্য রূপে দেখতে চান, জানতে চাইলে ঢাকা ১৫ আসনের সাধারণ ভোটার ইসতিয়াক আহমেদ জানান, “সাচ্চু ভাই নির্বাচন করলে ব্যক্তি হিসেবে তাকেই ভোট দিব। তিনি যদি নির্বাচন না করেন, তবে অন্যদল থেকে কে কে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তা দেখে ভোট দিব।”
যদিও মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়টি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু অস্বীকার করেছেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু  বলেন, বিষয়টি মোটেও এমন নয়। আমি সব সময়ই জনগনের সাথে থেকে জনগনকে নিয়ে রাজনীতি করতে ভালবাসি। সেই হিসেবে, এই উঠান বৈঠক। আমি সব সময়ই এমন বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে জনগনের কাছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উন্নয়ন বার্তা পৌছে দেই।
গত ৩৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ঢাকা ১৫ আসনের এমন কোন বাড়ী নেই যাদের বাসায় আমি কোন না কোন কাজে একবারের জন্য হলেও যাইনি। সবার সাথেই আমার রয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক। সেই হিসেবে আমি আওয়ামীলীগের উন্নয়ন বার্তা মানুষের কাছে পৌছে দিচ্ছি। এই এলাকার মানুষ আনন্দ-দুঃখ সব সময়ই আমাকে পাশে পায়। তাই আমার প্রতি ভালবাসার টানে তারা বিভিন্ন উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণ করছে।
মনোনয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই মনোনয়ন দিবেন। সবাই মিলে নৌকার পক্ষে কাজ করবে। এটাই স্বাভাবিক। সেটা আমাকে নাকি অন্য কাউকে সেটা বলার সময় এখনও হয়নি।
উল্লেখ্য, গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু ঢাকা ১৫ আসন এলাকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে সবাই জানেন। তিনি ১৯৮৫ সালে বৃহত্তর ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৭ ও ১৯৮৯ দুই মেয়াদে বৃহত্তর ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে মহানগর (উত্তর) ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here