নদী দখল করলে নির্বাচন ও ব্যাংক ঋণে অযোগ্য: হাইকোর্টের রায়

4
0

দেশের সকল ধরনের নদ-নদী দখলবাজদের তালিকা প্রকাশ করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই তালিকায় থাকা দখলবাজদের যে কোনো নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বলা হয়েছে।

আদালত বলেছেন, রাষ্ট্র দেশের সকল নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র-সৈকত, বন, খাল-বিল, জলাধারের মালিক হিসাবে ট্রাস্টির মত দায়িত্ব পালন করবে এবং এসব ক্ষেত্র যারা অবৈধভাবে দখল করবে তাদের জেল-জরিমানার বিধানসহ শাস্তির আওতায় আনতে নদী কমিশন আইনকে ছয় মাসের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্ট বলেছেন, সকল ইউনিয়ন, জেলা/উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নদ-নদী দখলদারের তালিকাভুক্তরা অযোগ্য হবেন এবং নির্বাচন কমিশনকে এব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ দশ দফা নির্দেশনা দিয়ে গতকাল রবিবার এ রায় দেন। তুরাগ নদী অবৈধ দখলমুক্ত চেয়ে হিউম্যান রাইটস এন্ড পীস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিট মামলার রায়ে তুরাগ নদীর জীবন সত্তা ঘোষণা করে নদী রক্ষা কমিশনকে দেশের সকল নদ-নদীর আইনগত অভিভাবক ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি নদী রক্ষায় কমিশনকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়।

রায়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তে তুরাগ নদীর অবৈধ দখলদার হিসেবে যাদের নাম এসেছে এবং এ মামলায় লড়েছে তাদের অবৈধ স্থাপনা এক মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

রায়ে হাইকোর্টের উল্লেখযোগ্য নির্দেশনাসমূহ

ক. প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদের স্ব-স্ব-অধিক্ষেত্রে নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে তা পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে। খ. কোনো ব্যক্তির ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি তার নাম নদ-নদী দখলদারের তালিকায় থাকে, তাহলে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এই ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংককে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। গ. নদ-নদী দখলকে অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করে এর সাজা, জরিমানা নির্ধারণ করা, অভিযোগ দায়ের পদ্ধতিসহ ইত্যাদি নদী কমিশন আইনে অন্তর্ভুক্ত করে ছয় মাসের মধ্যে তা আদালতে দাখিল করা।

ঘ. নদ-নদীর পাশে কোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নদী রক্ষা কমিশন থেকে অনাপত্তি নিতে হবে।

ঙ. ডিজিটাল ডাটা বেইজ প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্পারসো স্যাটেলাইটের সাহায্যে আর.এস/জিআইএস উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সকল নদ-নদীর ভৌগোলিক অবস্থান নির্ণয় করে সকল ইউনিয়ন, পৌরসভা, জেলা/উপজেলায় সকলের জন্য উন্মুক্ত করে রাখা এবং যাতে যে কোনো নাগরিক নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নদ-নদীর ম্যাপ/তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা।

ঘ. নদী রক্ষা কমিশনকে কার্যকরী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান করার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

ঙ. সকল স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিতে প্রতি দুই মাসে এক ঘণ্টার জন্য নদ-নদীর প্রয়োজনীয়তা, নদ-নদীর দূষণ সম্পর্কে পাঠদান করতে হবে।

চ. দেশের ছোট-বড় সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের অংশগ্রহণে দুই মাসে অন্তত এক ঘণ্টার নদী সংশ্লিষ্ট বৈঠক করতে হবে।

ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here