২০০ কোটি টাকা দিতে রাজি গ্রামীণফোন, আদেশ ১৮ নভেম্বর

28

গ্রামীণফোনের কাছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের পাওনা (বিটিআরসি) ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ১৮ নভেম্বর (সোমবার) এ বিষয়ে আদেশ দিবেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ শুনানি শেষে আদেশের এ দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম ও খন্দকার রেজা-ই রাকিব।

শুনানিতে গ্রামীণফোনের আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস জানান তারা বিটিআরসিকে ২০০ কোটি টাকা দিতে রাজি। অর্থমন্ত্রী ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ২০০ কোটি টাকা দিতে চায় গ্রামীণফোন।

এর বিরোধীতা করে বিটিআরসির পক্ষে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, গ্রামীণফোনের কাছ থেকে বিটিআরসির পাওনা আদায়ের ওপর হাইকোর্টের দেয়া নিষেধাজ্ঞা আমরা স্থগিত চাই।এরপর আদালত আদেশের দিন ধার্য করেন।

গত ৩১ অক্টোবর গ্রামীণ ফোনকে দুই সপ্তাহের সময় দিয়ে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছিলেন আপিল বিভাগ। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি হল।গত ২১ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান বিটিআরসির আবেদনের ওপর নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ২৪ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করে দেন।

২৪ অক্টোবর পাওনা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে গ্রামীণফোন নূন্যতম কত টাকা বিটিআরসিকে দিতে পারবে তা জানতে চান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবারের (৩১ অক্টোবর) মধ্যে তা আদালতকে অবহিত করতে গ্রামীণফোনের আইনজীবীদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে ওইদিন পরবর্তী আদেশের রাখেন আদালত।

গত ২০ অক্টোবর বিটিআরসি হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে।গত ১৭ অক্টোবর বিচারপতি একেএম আবদুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজীব সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওনা আদায়ের ওপর দুই মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন। গ্রামীণফোনের আবেদনের প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞাসহ আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত ।

চলতি বছরের ২ এপ্রিল বিভিন্ন খাতে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা দাবি করে বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে চিঠি দিয়েছিল। পরে গ্রামীণফোন ওই চিঠির বিষয়ে নিম্ন আদালতে মামলা করে। একইসঙ্গে ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়।পরে ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালত গ্রামীণফোনের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে গ্রামীণফোন।