সৌদি থেকে দেশে ফিরেছেন সেই সুমি

27

সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা পোস্ট করা সুমি আক্তার দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের পরিচালক ও উপসচিব মো. জহিরুল ইসলাম বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাকে গ্রহণ করেন।

এসময় প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনে সহযোগিতা করেন। বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, সুমির আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে ভিআইপি টার্মিনাল দিয়ে বের করে নিয়ে আসা হয়। এরপর বোর্ডের নিজস্ব গাড়িতে করে সুমিকে তার বাড়ি পঞ্চগড়ের উদ্দেশে পাঠানো হয়। স্বামী নুরুল ইসলাম বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকলেও তার কাছে সুমিকে হস্তান্তর করা হয়নি। সুমির সঙ্গে বোর্ডের একজন পিয়ন এবং কল্যাণ ডেস্কের একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাকে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ২ এ  গণমাধ্যম কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা কেউই সুমির সাক্ষাৎ পাননি।

সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সূত্রে জানা যায়, দেশে ফেরার আগে কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে সুমিকে দেশের ফেরার দিন তারিখ জানানো হয়। সেখানে এও উল্লেখ করা হয়, সুমি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হলো।

ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সুমিকে আমরা বোর্ডের গাড়ি দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ির উদ্দেশে পাঠিয়েছি। তার সঙ্গে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। সেখানে ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে না দিয়ে সুমিকে অন্যপথ দিয়ে কেন বের করা হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে বিষয়টা এমন নয়। সুমি দেশে ফেরার আগে আমাদেরকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখন এর পেছনে কারণ কী আমি ঠিক জানি না। আমি সকালে সুমির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঠিক মতো কথাও বলতে পারছেন না। তাকে ভীষণ অসুস্থ মনে হয়েছে আমার কাছে। তাই আমরা তাকে আমাদের গাড়িতে তুলে বাড়ির পথে রওনা করে দিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, ঢাকার আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী সুমি সম্প্রতি নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের ঘটনা জানিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। পরে ভিডিওটি ভাইরাল হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে। পরে তাকে উদ্ধার করে সৌদি পুলিশ। নুরুল ইসলাম জানান, মে মাসের ৩০ তারিখে চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে যান সুমি। সেখানে যাওয়ার পর তাকে এক বাড়িতে গৃহকর্মীর চাকরি দেওয়া হয়। তবে বাড়ির মালিক তাকে ঠিকমতো খেতে দিতো না। বিভিন্ন সময় শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। দেশে পরিবারের সঙ্গেও তাকে কথা বলতে দেওয়া হতো না। নির্যাতনের শিকার সুমি বর্তমানে ঠিকমতো দেখতে পান না। তার হাতে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয়েছে। এসব ঘটনা শোনার পর সুমিকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য সুমির স্বামী বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে সুমিকে সৌদি আরবে পাঠানো প্রতিষ্ঠান রূপসী বাংলা এজেন্সির মালিক আক্তার হোসেনের নামে আভিযোগ করা হয়।