বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় দুই ইমাম গ্রেফতার

13
রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সেনভাগ জামে মসজিদের ইমাম ইয়াকুব আলী(৩৫) ও তার সহযোগী ঈমাম আব্দুল আলীমকে(৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে ওই কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার সেনভাগ বাজার থেকে ইমামদ্বয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রধান আসামি ইয়াকুব আলী(৩৫) নরসিংদী জেলার আবুল হোসেনের ছেলে। তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে রাজশাহীর রাজপাড়া এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়নের গাওপাড়া সেনভাগ জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে গত ২৪ নভেম্বর মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পুঠিয়া থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, ইয়াকুব আলী মসজিদের পাশে একটি কক্ষে বসবাস করতেন। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আরবি পড়াতেন তিনি। আরবি পড়ানোর সূত্র ধরে স্থানীয় এক ব্যক্তির ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরী মেয়ের সাথে তার পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। স্ত্রী-সন্তানসহ আলাদা পরিবার রয়েছে ওই ইমামের। তিনি আরো জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি ওই মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অবৈধ সম্পর্কের ফলে মেয়েটি গত জুন মাসে গর্ভবতী হলে, ইয়াকুব তাকে বিয়ে না করে বাচ্চাটি নষ্ট করতে বাধ্য করেন। পরে বিষয়টি মেয়ের পরিবারের লোকজন জানতে পেরে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি সব অস্বীকার করেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে মেয়েটির বাবা থানায় ইমাম ইয়াকুব আলীসহ আরো দু’জন সহযোগীকে আসামি করে ধর্ষণের মামলা করেন। ওসি আরো বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ইয়াকুব ও আব্দুল আলীমকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের বাকি একজন সহযোগী পলাতক রয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।