প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে চলেছে ধুনটের জনি

13

অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও মনোবল দিয়েই শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে চলেছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ডিগ্রি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র জনি মিয়া। জন্ম থেকেই দুটি পা অকেজো। হাঁটতে বা দাঁড়াতেও পারে না সে। তাই দুই হাতের উপর ভর দিয়েই চলাফেরা করতে হয় তাকে। তারপরেও থেমে নেই তার শিক্ষা জীবন। জীবন যুদ্ধে হার না মেনে সকল প্রতিকুলতার সাথে লড়াই করে স্বপ্ন পূরনের জন্য সে দিনরাত্রি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গোসাইবাড়ী আব্দুল ওয়াদুদ টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড বিএম কলেজ থেকে ২০১৪ সালে জিপিএ-৪.৫০ পেয়ে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে জিপিএ-৪.৩৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করে গোসাইবাড়ী ডিগ্রী কলেজের স্মাতকে ভর্তি হয় জনি মিয়া।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ধুনট সরকারি ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে অর্থনীতি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখা যায় জনি মিয়াকে। দুই হাতে কাঠের পিঁড়িতে ভর দিয়ে পরীক্ষার হলে গিয়ে বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দিচ্ছিল সে।

ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী গ্রামের দরিদ্র কৃষক মোখলেছুর রহমানের দুই ছেলের মধ্যে জনি মিয়াই ছোট। জমিজমা বলতে কিছুই নেই তাদের। সবই যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে বহু আগেই। ৬ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর থেকে তার লেখাপড়া ও সংসারের দায়িত্ব নেয় বড় ভাই রনি মিয়া। একটি বে-সরকারী কোম্পানীতে চাকরি করেও রনি মিয়া তার বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী ভাইয়ের অন্ন জোগাড় করে চলেছেন। তাই অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও মনোবল নিয়েই লেখাপড়া শুরু করে প্রতিবন্ধী জনি মিয়া। কিন্তু প্রতিবন্ধী হলেও মেলেনি কোন সরকারি ভাতা। চলাফেরার জন্য একটি পুরাতন ভ্যানের সাথে প্লাস্টিকের চেয়ার বসিয়ে হুইল চেয়ার তৈরী করে নিয়েছে। নিজের তৈরী সেই হুইল চেয়ারে করেই কলেজে যাতায়াত করে জনি।

প্রতিবন্ধী জনি মিয়া জানায়, জন্ম থেকেই তার দুটি পা অকেজো। হাঁটতে বা দাঁড়াতে পারে না। তাই ছোট বেলা থেকে কখনো বাবা-মা আবার কখনো অন্যের সাহায্য নিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হয়েছে তাকে। প্রতিবন্ধী হলেও কোন সরকারি ভাতা মেলেনি। তাই বড়ই ভাইয়ের খরচেই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। লেখাপড়া করে সে একজন শিক্ষক হতে চায়।

ধুনট সরকারি ডিগ্রী কলেজের কেন্দ্র সচিব প্রভাষক আব্দুল মান্নান বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়ায় জনি মিয়াকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল।

গোসাইবাড়ী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ জানান, দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হওয়ায় জনি মিয়াকে বই সহ কলেজ থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তাই জনি মিয়াকে প্রতিবন্ধী ভাতা সহ একটি হুইল চেয়ার প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।

Sponsored