দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-পথে মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করে করোনাভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরছে অসংখ্য মানুষ!

4

রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ

নোভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কে নিরব নিস্তব্ধ বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব। রাজবাড়ী সদরে ৫ ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় প্রশাসনসহ বিআইডব্লিউটিসি কতৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা ঝুঁকির শীর্ষে থাকা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, কেরানিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন রাজবাড়ী জেলায় আগত মানুষকে। পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরি গুলোতে গাদাগাদি করে দৌলতদিয়া প্রান্তে এসে নামছে। এতেকরে রাজবাড়ীর লকডাউন পরিস্থিতি অনেকটাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

জানা যায়, রাজবাড়ী জেলায় গত ১১ এপ্রিল প্রাণঘাতি নোভেল করোনাভাইরাস আক্রান্ত ৫ জন রোগী সনাক্ত হয়। এরপর রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন সম্পুর্ণ জেলাকে লকডাউন ঘোষনা করে। এ ঘোষনার পর থেকে জেলায় বহিরাগতদের আসা ও জেলাবাসীকে অন্যত্র যাওয়া বন্ধ করতে কঠোর হয় প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে অন্যান্য স্থানে প্রশাসন সফল হলেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বন্দর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে করোনা ঝুঁকির শীর্ষে থাকা ঢাকা-নারায়নগঞ্জ, কেরানিগঞ্জসহ অন্যান্য জেলা থেকে আসা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না প্রশাসন। ফেরিতে ব্যাক্তিগত গাড়ি ও সাধারন যাত্রী হয়ে অসংখ্য মানুষ ঢুকে পড়ছে দৌলতদিয়া প্রান্তে। এতেকরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দসহ এ অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-পথে এম্বুলেন্স ও জরুরী পণ্য পারাপারে ফেরি চলাচল সীমিত করেছে কর্তৃপক্ষ। লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু প্রথম দিকে সাধারন যাত্রীদের চাপে জরুরী যানবাহন পারাপার চরম ভাবে ব্যাহত হয়। পরে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন থেকে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় সেনা সদস্যসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করে। এর ফলে দৌলতদিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরিতে সাধারন যাত্রী ও ব্যাক্তিগত গাড়ি উঠা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এর উল্টো চিত্র মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরি গুলোতে। পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরিতে জরুরী যানবাহনের সাথে ব্যাক্তিগত গাড়ি ও সাধারন মানুষের পূর্ন লোড নিয়ে দৌলতদিয়া প্রান্তে থামছে ফেরি। এ সকল ফেরি থেকে যাত্রী ও যানবাহন গুলো নেমে ছড়িয়ে পড়ছে রাজবাড়ী জেলাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্তব্যরতদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখা ছাড়া আর তেমন কিছুই করার থাকছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইডব্লিউটিসি’র একজন কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমন রোধে রাজবাড়ী জেলায় লকডাউন চলছে। পক্ষান্তরে মানিকগঞ্জ জেলা এখনো লকডাউনের আওতায় আসেনি। যে কারণে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরিতে সাধারন যাত্রী ও ব্যাক্তিগত গাড়ি উঠায় কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই সেখান থেকে বিনা বাঁধায় জরুরী যানবাহন ছাড়াও অন্যান্য যানবাহন ফেরিতে উঠে পড়ছে। যা দৌলতদিয়া ঘাট থেকে কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

সরেজমিন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কথা হয় ব্যাক্তিগত গাড়ির চালক সিরাজুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, তার মালিক রুবেল হোসেন ‘তারা’ নামের একটি টেলিভিশনের ঢাকা জেলার সাভার প্রতিনিধি। তিনি তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে আছেন। মালিকের কিছু জরুরী জিনিস পত্র পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার দিনে পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে বিনা বাঁধায় ফেরিতে নদী পার হয়ে এসেছেন। কিন্তু ফেরার সময় ফেরিতে উঠতে পারছেন না। কর্তব্যরত ব্যক্তিরা তাকে তার মালিকের বাড়িতে ফিরে যেতে বলছেন।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-পথের সকল ফেরি বন্ধ রেখে মাত্র চারটি ফেরি দিয়ে সীমিত আকারে জরুরী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে যানবাহন উঠার বিষয়টি বর্তমানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলার লকডাউন বাস্তবায়নে তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। যে কারণে ফেরিতে উঠা যানবাহন গুলোকে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কিন্তু পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরি থেকে অসংখ্য মানুষ ও ব্যাক্তিগত গাড়ি দৌলতদিয়ায় নামছে। এ ক্ষেত্রে তাদের ঘুরিয়ে দেয়া বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ থাকছে না। বিষয়টি নিয়ে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছেন বলে তিনি স্বীকার করনে।