বাকেরগঞ্জে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি চাল নিয়ে চলছে নানা অনিয়ম নেই দেখার মত কেউ

27

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ খান মেহেদী

সম্প্রতি বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র দেয়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি চাল অসহায় দুস্থদের মাঝে ৩০ কেজি চাল বস্তা প্রতি ৩০০ টাকা দরে বিক্রির কথা থাকলেও তা নিয়ে চলছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। অভিযোগ উঠেছে, যথানিয়মে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয় না ডিলার কর্তৃক রাতে বস্তা খুলে ৫ কেজি চাল রেখে দিয়ে জনগণকে নানা অজুহাত দেখিয়ে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এছাড়াও বস্তা মেপে দেখা যায় কোন বস্তা ২৪, ২৫, ২৬ অথবা ২৭ কেজি। প্রত্যেক ডিলার চাল দেয়ার সময় একজন করে ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও যথাসময়ে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অফিসার আসার আগেই ডিলাররা বস্তা খুলে লাল বালতি দিয়ে চাল দেয়া শুরু করে ফলে পরিমাপে বেশি-কম হয়। সরকার কর্তৃক ৩০ কেজির বস্তা নির্ধারণ করা থাকলেও ডিলাররা কেন বস্তা খুলে মাপে গড়মিল করছে তা নিয়ে জনমণে না ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উপজেলার ফরিদপুর, নিয়ামতি, পাদ্রীশিবপুর, রঙ্গশ্রী, দুর্গাপাশা, ভরপাশা, চরাদি, চরামদ্দি, দাড়িয়ালসহ ১৪ টি ইউনিয়নেই এমন অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায়, সরকারের কঠিন হুঁশিয়ারি থাকলেও তারা এ জাতীয় কর্মকাণ্ড থেকে এখনো বিরত থাকিনি, বরং মাপে কম দিয়ে চাল আত্মসাৎ করে গরীবদের ঠকানো হচ্ছে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলায় দুইটি খাদ্য গুদাম রয়েছে। কলসকাঠী খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, বাকেরগঞ্জে আমার আন্ডারে ৩৫ জন ডিলার। মোট চাল বরাদ্দ ৫৮৮ টোন ৭৩০ কেজি’র ভিতরে ৮ জন ডিলার এখন পর্যন্ত কোন চালান জমা দেয়নি এবং চাল উত্তোলনও করেনি। নিয়ম হল মাসের ১ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত খোলা বাজারে লাল কাপড় টানিয়ে বিক্রি করা কিন্তু ৮ জন ডিলার এখন পর্যন্ত চাল নেয়নি। কেন নেননি তা জানি না। ঐসকল ডিলারদের মধ্যে রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে দুইজন, নিয়ামতি ইউনিয়নে একজন, পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়নে দুইজন, নলুয়া ইউনিয়নের দুইজন, ভরপাশা ইউনিয়নের একজন। তারা কি জন্য এখনও চাল উত্তোলন করেনি তা খতিয়ে দেখা দরকার। বাংলাদেশের করোনা ভাইরাসের মধ্যেও এই দুর্যোগ মুহূর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন কোন চাল চোরকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই দুর্যোগ মুহূর্ত জেনেও তারা তাদের অনিয়ম ও মাপে কম দেয়া অব্যাহত রেখেছে।

পূর্বাঞ্চলের চরাদি, হালতা বন্দর সংলগ্ন খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা জানান, তার আন্ডারে ১৭ জন ডিলার রয়েছে। তাদের মাঝে ২৯০ টন চাল যথানিয়মে ডিলারদের মাঝে ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে মেপে তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। তারা যদি পরবর্তীতে কোন দুর্ণীতি করে তার দায়ভার তাদের। অধিকাংশ ডিলাররা সাংবাদিকদের জানান, গোডাউন থেকে মাপে কম দিলে আমাদের চুরি করা ছাড়া উপায় থাকে না। বস্তায় ঘাটতি আছে এমন কথা উল্লেখ করেন। তাছাড়া সাংবাদিক, ট্যাগ অফিসার ও ফুড কর্মকর্তাসহ সকলকে ম্যানেজ করতে হয়। উল্লেখ্য খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির যে সমস্ত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের হাত দিয়ে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে ওই কার্ডেও রয়েছে অনেক অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, যিনি একবার কার্ড দিয়ে চাল নিয়েছেন তার কার্ডটি রেখে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ওই লোক আর কার্ড আনতে না পারায় সে চাল পায়নি। এছাড়াও ইউপি সদস্যরা তাদের ভোটার বাড়ানোর জন্য ওই কার্ডের ছবি উঠিয়ে অন্যের ছবি লাগিয়ে তাদেরকে চাল দেয়ার এমনও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে তদন্ত করলে যার সত্যতা মিলবে।

হালতা বন্দর সংলগ্ন এক ডিলার চাল বিতরণ করেছে কিন্তু চাল দেওয়া শেষ হলেও এখনো অধিকাংশ কার্ডের লোকেরা চাল পাইনি। এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিবেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। মানুষের খেতে পারেনা অথচ ফরিদপুর ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি চাল মাছের ঘেরে মাছকে খাওয়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে যে ছবি তিনটি দেওয়া হয়েছে তা গোমা বাজারের এক ডিলারের চাল মাপে কম দেয়ার ছবি। দেশের এই পরিস্থিতিতে এই চাল চোর ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।