ধানে ব্লাস্ট রোগঃ কৃষকের মাথায় হাত

5

জেমস্ আব্দুর রহিম রানা:
আর কিছু দিন পরই কৃষকের ঘরে উঠবে সোনালি ধান। এরইমধ্যে মণিরামপুরের পশ্চিমাঞ্চলে অধিকাংশ কৃষকের মুখের হাসি মলিন হতে শুরু করেছে, উঠছে মাথায় হাত। ওই এলাকার শত শত জমির বোরো ধান ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।
গত ৮-১০ দিন ধরে কৃষকের এই দুর্দশা হলেও কোনো খোঁজ রাখেন না কৃষি অফিসের কেউ। আবার কৃষকদের অনেকে নামও জানেন না সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার। যদিও কৃষি অফিসের দাবি, একমাস আগে কিছু জমিতে হালকা লিপ ব্লাস্ট দেখা দিয়েছিল যা ত্রখন নিয়ন্ত্রণে।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার কোদলাপাড়া, রঘুনাথপুর, মাহমুদকাটি, টেংরামারী, দোঁদাড়িয়া, হানুয়ার ডায়ের বিল, ঝোঁকা, দীঘিরপাড়, পারখাজুরা, চাকলা, সাহাপুর, কোমলপুর মাঠের অনেক জমির ধান গিট ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে মাজরা পোকার আক্রমণ। ধানগাছের মাঝামাঝি স্থান থেকে শীষ পর্যন্ত শুকিয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে ধান পেকে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা নিজের বুদ্ধিতে বিষ স্প্রে করেও ফল পাচ্ছেন না। উপজেলার কোমলপুর গ্রামের কৃষক মাছ ব্যাবসায়ী সামাদ বলেন, আমাদের মাঠে ধানের কেবল শীষ বেরিয়েছে। তার মধ্যি বেশিরভাগ শীষের গোড়া ফুটো করে দিচ্ছে পোকা। দেখলে মনে হচ্ছে, ধান পেকে গেছে। স্প্রে করিছি, কাজ হচ্ছে না। এই এলাকার মনু মিয়া, ডাঃ জিন্নু, রেজাউল, আমিনুল ইসলামসহ অনেকের ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানালেন চাষিরা।
চাষি আতিয়ার রহমান বলেন, আমাদের মাঠে ধানের রোগ মহামারী আকার ধারণ করেছে। দশ দিন ধরে আমার ছয় বিঘা জমির ধান ব্লাস্ট ও মাজরা পোকায় আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে দেড়বিঘা জমির অবস্থা খুব খারাপ। যেটা পাকার মতো হচ্ছে, সেটা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া আশপাশের প্রায় ৪০-৫০ বিঘা জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বলেন, আমার ১৫ কাঠা জমির ধান শেষ হয়ে গেছে। জমিতে গেলে কান্না আসে। টেংরামারী বিলের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, বিলে প্রথম ফারুক নামে এক কৃষকের ৪০ শতক জমি আক্রান্ত হয়। সেখান থেকে পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে রোগ। আমার নিজের ৫০শতক জমির ধান চারদিন ধরে আক্রান্ত হয়েছে। ওষুধে কাজ হচ্ছে না। কৃষি অফিসার আমাদের খোঁজও নেয়নি। আমি এই এলাকার দায়িত্বে যে আছে তার নামও কোনোদিন শুনিনি।
রঘুনাথপুর শেখপাড়া মাঠের চাষি নাজিম উদ্দিন বলেন, ৪-৫ দিন আগে হালকা ঝড় হয়েছে। তারপর আমার একবিঘা জমি আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মাঠের অনেক ধান ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে। খেদাপাড়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, কিছু জমির বোরো ধানে ব্লাস্ট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কুয়াশা পড়লে এই সমস্যাটা বেশি হয়। আমরা কৃষকদের ট্রুপার স্প্রে করতে বলছি। এখন আর সমস্যা নেই। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার আমাদের প্রতিবেদক জেমস আব্দুর রহিম রানাকে বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তারমধ্যে একমাস আগে সবমিলিয়ে বিঘা দুই জমিতে লিপ ব্লাস্ট দেখা দিয়েছিল। স্প্রে করার পর সেটা এখন নিয়ন্ত্রণে।
এসময় কয়েকটি মাঠের ধান গিট ব্লাস্টে আক্রান্ত হওয়ার খবর দিলে তিনি বলেন, আমি এখনই মাঠ পরিদর্শনে যাচ্ছি।