দেশের ৪৪ জেলায় করোনাভাইরাস এর বিস্তার ছড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ থেকে

0

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিন নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) রোগী শনাক্ত হয় নারায়ণগঞ্জে। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা। এ পর্যন্ত শুধু নারায়ণগঞ্জেই সংক্রমিত হয়েছে ৫৪২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। সংক্রমণের হটস্পট এই জেলা থেকে ছড়িয়ে পড়া মানুষের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছে ৪৪ জেলা। তবে এখনও করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়নি রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, নাটোর, সাতক্ষীরা এবং ঝিনাইদহ। সংক্রমণ রোধে এ পর্যন্ত লকডাউন হয়েছে ৪১ জেলা।

ইতালি ফেরত এক ব্যক্তির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে প্রথম সংক্রমিত হয় তার পরিবার। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও ভাসমান মানুষ বেশি হওয়ায় সংক্রমণ বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্ত রোগী এই জেলাতেই। সংক্রমণ রোধে লকডাউন ঘোষণার পরও নানা কৌশলে নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছেন অনেকে। এসব মানুষের দ্বারাই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বেশিরভাগ জেলায়।

ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার মধ্যে ১১ জেলাতেই সংক্রমণ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ ফেরত মানুষের মাধ্যমে। এরমধ্যে গাজীপুর, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন। সংক্রমণ রোধে লকডাউন হয়েছে মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল ও নরসিংদী।
সংক্রমিত হয়েছে গাজীপুর, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ।

চট্টগ্রাম বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ফেরত মানুষের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছে ৮ জেলা। এই বিভাগে শনাক্ত রোগীর চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাতেই বেশি। লকডাউন হয়েছে কক্সবাজার, চাঁদপুর, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী।

সংক্রমিত হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বান্দরবান)

রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার মধ্যে ১২ জেলাতে প্রথম রোগী ধরা পড়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে যাওয়াদের শরীরে। এখন পর্যন্ত শনাক্ত বেশি হয়েছে দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও রাজশাহীতে। লকডাউন রয়েছে, রাজশাহী, বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, ও নীলফামারী।

সংক্রমিত হয়েছে রাজশাহী, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, পাবনা, দিনাজপুর।

খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে খুলনা ও নড়াইলে শনাক্ত রোগী নারায়ণগঞ্জ ফেরত। এছাড়া যশোর, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ও মাগুরাতে শনাক্ত হয়েছে করোনা রোগী। লকডাউন রয়েছে খুলনা ও চুয়াডাঙ্গা জেলা। সংক্রমিত হয়েছে খুলনা, নড়াইল।

ময়মনসিংহ বিভাগে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আশঙ্কাজনক। চার জেলাতেই প্রথম শনাক্ত রোগী গিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে। লকডাউন রয়েছে ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোণা ও জামালপুর। সংক্রমিত হয়েছে ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, জামালপুর।

এছাড়া বরিশাল বিভাগের বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও বরগুনায় শনাক্ত রোগীও নারায়ণগঞ্জ ফেরত। লকডাউন রয়েছে বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা।

এছাড়া সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জেও করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয় নারায়ণগঞ্জ থেকে যাওয়া মানুষের শরীরে। সংক্রমণ রোধে লকডাউন রয়েছে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে।