অন্তঃসত্ত্বার করোনা পজিটিভ, প্রসূতি ওয়ার্ড লকডাউন

0

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর করোনা পজিটিভ হওয়ায় প্রসূতি ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও বাড়ি লকডাউন।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক প্রসূতির করোনা রিপোর্ট পজেটিভ হওয়ায় ওই হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটার লকডাউন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, রোগীর সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সদর উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সদর উদ্দিন জানান, চারদিন পূর্বে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এক নারী ভর্তি হয়। অপারেশনের মাধ্যমে তিনি সন্তান প্রসব করেন। পরে তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়। নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে। পরে হাসপাতালের প্রসূতী ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটার লকডাউন করা হয়েছে।

পরে, গতকাল মঙ্গলবার ওই নারী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের তারুটিয়া এলাকায় তার বাবার ভাড়া বাড়িতে গেলে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় প্রশাসন গিয়ে ওই বাড়ি লকডাউন করে দেয়।

অন্যদিকে, ঘাটাইলের দিগড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন জানান, করোনায় আক্রান্ত আরেক রোগীর বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের দেলুটিয়া গ্রামে। সে ঢাকার একটি ক্লিনিকে ল্যাব টেকনেশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঢাকায় অবস্থানরত অবস্থায় নমুনা পরীক্ষা করলে তার করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। পরে সেখান থেকে পালিয়ে সে ঘাটাইলে এসে আত্মগোপন করে।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘাটাইলের শনাক্ত হওয়া করোনা রোগী ঢাকা থেকে পালিয়ে এসে ঘাটাইলে অবস্থান নিলে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশের একটি বিশেষায়িত টিম তাকে মঙ্গলবার রাতে কদমতলী এলাকা থেকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করে।

সিভিল সার্জন জানান, জেলায় নতুন ১৪৫ জনসহ ১৪৬২ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে দু’জন। সুস্থ হয়েছে ১৯ জন। গত ২৪ ঘন্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১২৭ জনকে। এ পর্যন্ত সর্বমোট ২৯৭৪ জনের নমুনা পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ৬০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ২৭৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ। ১২৬ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও পোঁছায়নি।