পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ২৫

1

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার নতুনপাড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এত পুলিশের ১০ সদস্যসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন।সংঘর্ষে আহত শ্রমিকরা জাগো নিউজকে জানান, হেড অফিসের লাখ টাকা বেতনের কর্মকর্তাদের এপ্রিল মাসের বেতন মিলেছে, কিন্তু যাদের পরিশ্রমে ওই কর্মকর্তাদের বেতন হলো, সেই শ্রমিকদের ভাগ্যে শ্রমের মূল্য জোটেনি।
করোনাভাইরাস মহামারিতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে মালিকপক্ষ তাদের কাজ করতে বাধ্য করেছিল। অনেক দূর থেকে শ্রমিকরা হেঁটে কাজে যোগ দিয়েছে। ২৬ এপ্রিল শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে ‘পূর্ণাঙ্গ সবেতনে ছুটি’ ঘোষণা করে ফোরএইচ গ্রুপের মালিক পক্ষ। এ সময় দূর থেকে যারা চলে এসেছিলেন তাদের অনেকেই কারখানার কাছাকাছি বসবাস করা শ্রমিকদের বাসায় ওঠেন। সেখান থেকে তারা কাজে যোগ দেন।
বৃহস্পতিবার বেতন হিসাব করতে গিয়ে তাদের ৬০ ভাগ বেতন দিতে চাইলে শ্রমিকরা আপত্তি জানান। সড়কে বেরিয়ে প্রতিবাদ করেন। শ্রমিকরা শান্তভাবে সারাদিন রাস্তায় অবস্থান করলেও বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ পুলিশ চড়াও হয়। পুলিশের লাঠিচার্জের মুখে শ্রমিকরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।এদিকে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে শিল্প পুলিশের পরিদর্শক জাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, শ্রমিকরা এপ্রিল মাসের শতভাগ মজুরির দাবি করে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সকাল থেকে আন্দোলন করছিল। আমরা তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে এক নারী পুলিশসহ ১০ জন আহত হন। মাথা ফেটেছে তিনজনের।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৮টা থেকে ফোরএইচ গ্রুপের এই কারখানার শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও শতভাগ মজুরির দাবিতে তারা আজ কাজে যোগ দেননি। প্রথমে শ্রমিকদের একটি অংশ কারখানার গেটের ভেতর অবস্থান নিলেও সকাল ৯টা থেকে তারা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশপথ, বিআরটিসি চত্বর ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
মালিকপক্ষ বলছে, শ্রমিকদের বেতনের ৬০ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু তারা শতভাগ চায়। কোম্পানি শতভাগ বেতন দিতে রাজি থাকলেও গার্মেন্টস মালিকদের পক্ষ থেকে ৬০ ভাগ পরিশোধের ঘোষণা থাকায় তা করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে শ্রমিকরা আজ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেন। কারখানাটিতে কাজ হয় দুই শিফটে। প্রথম শিফটের শ্রমিকরা দুপুরেও একবার বিক্ষোভ করেছিলেন। পরে দ্বিতীয় শিফটের শ্রমিকরা বিক্ষোভে যোগ দিলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।