করোনা পরিস্থিতিতে বাতিল করা হয়েছে দেশের তৃতীয় বৃহৎ ঈদ জামাত

4

এফ আই নয়ন (নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি)

এক সময় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়াতে হতো বাংলাদেশের বৃহৎ ঈদ জামাত। এখন তা দ্বিতীয়, কয়েক বছর ধরে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ জামাত আয়োজন হচ্ছে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে। দেশের বৃহৎ সেই জামাতের তালিকায় গত দুই বছর নারায়ণগঞ্জের নামটিও উঠে এসেছে । সর্বত্রই বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছিল নারায়ণগঞ্জ এর এই ঈদ জামাতটি ।

তৃতীয় বৃহৎ ঈদ জামাতটি ২০১৮ সাল হতে নারায়ণগঞ্জে হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা ছিলো ধীরে ধীরে এটা অন্যতম সুন্দর ও সর্ববৃহৎ আয়োজন হবে নারায়ণগঞ্জের এই ঈদ জামাত। প্রতি জামাতেই নতুনত্ব আনা হচ্ছিল। প্রায় দেড় লাখ  ‍মুসল্লির এক সাথে যেন নামাজ আদায় করতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়। অনেকেই এ জামাতের নামকরণ করেছিল ‘দেড়লাখিয়া’। তবে, বর্তমান করোনাভাইরাসের মহামারির এ দুর্যোগে সে ধারাবহিকতা রাখা সম্ভব হবে না।
এবছরের প্রথম ঈদ অর্থাৎ ঈদুল ফিতর মে মাসে উদযাবিত হবে। কিন্তু এসময়ে সারা বাংলাদেশেই নানা নিয়মে কার্যরত লকডাউন তা বাধা হয়ে দাড়িয়েছে।এদিকে গত ১৪ই মে  ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় “ বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এবছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হল।”

সরকারি বিধিনিষেধ ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আয়োজকদের ইচ্ছা থাকা সত্বেও এবারে নারায়ণগঞ্জে বৃহৎ ঈদ জামাত আয়োজন করা হচ্ছে না। শুধু বৃহৎ ঈদ জামাতই না, জেলার কোন ঈদগাহ ময়দানেই জামাত অনু্ষ্ঠিত করার সুযোগ নেই।
প্রতিবছর নারায়ণগঞ্জের জামতলায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতো। যা এ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড়। এই ঈদগাহ মাঠে প্রথম জামাতে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা করা হতো। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় নামাজ পড়ার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হতো।
তবে, ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বৃহৎ ঈদ জামাত আয়োজনের ঘোষণা দেন। জেলা প্রশাসন, ইসলামী ফাউন্ডেশন ও আলেমদের পরামর্শ ও নানা সহযোগিতায় সে বছর থেকে শুরু হয় বৃহৎ ঈদ জামাতের। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান ও পার্শ্ববর্তি ইসদাইর এলাকায় এ কে এম সামছুজ্জোহা স্টেডিয়াম সমন্বয়ে নামাজ পড়ার উপযোগী বিশাল প্যান্ডেল করা হয়। যার ব্যায় শামীম ওসমানের উদ্যোগে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত খরচে আয়োজন করা হয়। এর পর থেকে প্রতিটি ঈদের জামাত আয়োজনে বৃহৎ এর পাশাপাশি নানা সৌন্দর্য মন্ডিত করে নামাজ পড়ার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয় এলাকাটি।
গত বছর ঈদ জামাত আয়োজন করা হয়েছিল, ইসদাইর এলাকায় এ কে এম সামছুজ্জোহা স্টেডিয়াম, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের একটি অংশসহ পৌনে দুই লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে। পবিত্র মদীনা শরীফের আদলে স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে প্রায় পৌনে দুই লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে প্যান্ডেল করা হয়েছিল। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য প্রধান ফটকে আকর্ষণীয় তোরণ নির্মান, প্যান্ডেলের অভ্যন্তরে কার্পেটিং, জামাতের ইমামের জন্য মিম্বর, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও ফ্যানের ব্যবস্থাসহ সুন্দর পরিবেশে ওই বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি ছিল দেড় লাখের মত মুসল্লীর সমাগম ঘটেছে।
আর পুরো আয়োজনটির স্বপ্নদ্রষ্টা প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান তখন বলেছিলেন, এত বড় ঈদের জামাত করার পিছনে নাম কামানোর উদ্দেশ্য নেই। তবে উদ্দেশ্য তো একটা আছে। সেটা হলো, লক্ষ মানুষের মাঝে আল্লাহ সুবহানা তা’য়ালা একজনের হাতের জন্য সবার দোয়া কবুল করবেন। তাই লক্ষ মানুষের উদ্দেশ্যে এই ঈদের জামাতের আয়োজন।পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবছরের আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেতো জানিয়ে  দুঃখ প্রকাশ করেন এ কে এম শামীম ওসমান।

আয়োজন করতে না পারার কষ্টটা একটু বেশি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বৃহৎ জামাতের এই স্বপ্নদ্রষ্টা। শামীম ওসমান বলেন, এবার ইচ্ছে ছিল সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম মিলিয়ে অন্যান্য বছরের চেয়েও বড় করে ঈদ জামাত করার। ডিসি সাহেবের সাথেও ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি তা আর হচ্ছে না।

Sponsored