ফেঁসে যেতে চলছে নানা অভিযোগে বাকেরগঞ্জ থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা

136

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। এই নানা কিসিমের অপকর্মের সংজ্ঞা খুঁজে পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীসহ সাধারণ মানুষ। এএসআই সজল রায় ও এএসআই সোহেল রানা করোনা মহামারীকে পুঁজি করে বিভিন্ন ফন্দিফিকিরের মাধ্যমে কাড়িকাড়ি টাকা ইনকামের ধান্ধায় নেমে পড়েছেন।

জানা যায়, গত ১৩ মে (বুধবার) রাতে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বড় রঘুনাথপুর গ্রামের আউয়াল শিকদার ও তার ছেলে বেল্লাল শিকদারকে আটক করা হয়। পরিকল্পণা অনুযায়ি, স্থানীয় গণি হাওলাদারের ছেলে জসিম হাওলাদারের সহযোগিতায় ত্রাণ দেয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের করে তাদের হাতকড়া পড়ানো হয়। পরে ঘন্টাব্যাপী রফাদফার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকার চাঁদাবাজীর শিকার বানানো হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মুনসুর শিকদারের ছেলে জাফর শিকদার জানান, পুলিশের ওই চাঁদাবাজীর টাকা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী বেল্লাল শিকদারের ঘর থেকে তাদের ব্যবহৃত সিমসহ ৩টি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়া হয়।

গত ২৭ এপ্রিল (সোমবার) রাতে একই ইউনিয়নের খ্রিস্টান পল্লী এলাকার শঙ্কর শীলের ছেলে এনজিও কর্মি বাবন শীল নামের এক যুবককে হাতকড়া পড়িয়ে জিম্মি করে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন ওই ফন্দিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা। পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান বাবু জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্তু ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা চাঁদার দাবী অনঢ় অবস্থান নেন। পরে নাছোরবান্দাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে বাধ্য ভুক্তভোগী। সূত্র জানায়, ওই চাঁদার টাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান বাবু’র মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। এরপরেও দাবীকৃত চাঁদার ৩ হাজার বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকী দেয়া হয়।

এর আগে উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কাঠালিয়া গ্রামের আজিজ হাওলাদারের শারীরিক প্রতিবন্ধি কলেজ পড়–য়া ছেলে শিফাত হাওলাদারের কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকী দেন এএসআই সোহেল রানা। ওই পুলিশ কর্মকর্তার উৎপীড়নে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওই শিক্ষার্থী বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে শেষরক্ষার চেষ্টা করেন। কলেজ শিক্ষার্থী শিফাত হাওলাদার জানান, নীল রংয়ের পলিথিনে মোড়ানো লাল রংয়ের ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে বলা হয় ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে ১ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়। সময় বেঁধে দেয়ায় পালিয়ে আত্মরক্ষার সুযোগ পেয়েছেন বলে ভুক্তভোগী শিফাত দাবী করেন।

তাদের কর্মকান্ডকে প্রতারণা, চাঁদাবাজী, নাকী মানবতাবিরোধী অপরাধে সংজ্ঞায়িত করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউ। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ড করলেও তার কোনো সুরাহার স্বপ্ন দেখতেও পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত কর্র্মপরিধির বাইরে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ কিংবা সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো ভূমিকা রাখাতো দূরের কথা উল্টো সবাই মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছেন। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মিরাও পড়ছেন জিম্মিদশায়। পুলিশের কোনো অপকর্ম লিখতে গেলেই মিথ্যা মামলা দিয়ে নাজেহাল করা হচ্ছে তাদের। বিশেষ কৌশলে প্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে গোলকধাঁধায় ফেলে একধরণের ভূতরে পরিস্থিতির সৃষ্টির মাধ্যমে লাগামহীন অপরাধ সংঘটিত করে চললেও কোনো প্রকার জবাবদিহিতা না থাকায় সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ছে।

এবিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম চাঁদাবাজীর ঘটনা ঘটতে পারে, তবে তিনি তা জানেন না উল্লেখ বলেন, মির্জাগঞ্জের একটি এলাকায় মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর সূত্র ধরে মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। এছাড়া উল্লেখিত অন্যান্য অভিযোগের বিষয় অবগত নন বলে তিনি আরো জানান।

অপরদিকে, অভিযুক্ত এএসআই সজল রায় ও এএসআই সোহেল রানা স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মিদের কাছে নিজে এবং বিভিন্নভাবে সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য ধর্ণা দেন। পরে কোনো উপায় না পেয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকী প্রদান করা হয় স্থানীয় সংবাদকর্মিদের।

Sponsored