কুষ্টিয়ায় ভোরের ঈদ বাজার জমজমাট

0

আক্রামুজ্জামান আরিফ-কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা মানছে না জেলার ব্যবসায়ীরা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী ছাড়া সকল দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হলেও লুকোচুরি করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঈদের বেচাকেনা জমজমাট ভাবেই চলছে। ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ভোর থেকেই দোকান খুলে ঝাপ ফেলে ভিতরে বেচাকেনা করছে। সার্বক্ষনিক বাইরে একজন বা দুজন কর্মচারী ক্রেতা এবং প্রশাসনের কর্তাদের দৃষ্টি রেখে চলেছে। এদিকে গতকাল জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত শহরের বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটে অভিযান চালিয়ে এক ব্যবসায়ীকে এক মাসের কারাদন্ডাদেশ এবং ২০হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে বলে জানা যায়। শনিবার থেকে ঈদের জন্য খুলে দেয়া মার্কেট সামাজিক দুরত্ব না মানায় বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে শহরের অধিকাংশ দোকানের ঝাপ ফেলে ক্রেতাদের ভেতরে ঢুকিয়ে বেচাকেনা চলছে। দোকানের সামনে একজন কর্মচারী দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে তাকে ঝাপ তুলে ভিতরে দিয়ে আবার ঝাপ ফেলে দেয়া হচ্ছে। আর দোকানের ভিতরেই চলছে দর দাম এবং বেচাকেনা। বেচাকেনা শেষে ক্রেতাকে বের করে দিয়ে আবার নতুন ক্রেতা ঢোকানো হচ্ছে এভাইে শহরের থানা মোড়ের অধিকাংশ দোকানের চিত্র। যা চলে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা শহরে টহলের আগ পর্যন্ত। আবার অনেক বন্ধ দোকানের ঝাপে স্টিকার লাগানো হয়েছে। সেখানে মোবাইল নম্বর দিয়ে লেখা হয়েছে প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন। ক্রেতারা তাদের প্রয়োজনে মোবাইল করে আর সুযোগ বুঝে পণ্য বিক্রি করে আবার ঝাপ নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল ভোরে শহরের থানামোড় এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে- থানার আশে পাশের অধিকাংশ দোকানের সামনে দোকানের কর্মচারীরা দাঁড়িয়ে ক্রেতা সাধারনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এসময় ক্রেতা দোকানের সামনে আসলেই ঝাপ তুলে তাদের দোকানের ভিতরে ঢুকিয়ে ঝাপ ফেলে দিচ্ছে আবার বেচাকেনা শেষে ঝাপ তুলে ক্রেতাদের বের করে দেয়া হচ্ছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষেরাই ঈদের কেনা কাটায় ভোরে ব্যস্ত দেখা গেছে। সকাল গড়ানোর সাথে সাথে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে বেলা ১১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটে অভিযান চালিয়ে একটি দোকানের মালিককে এক মাসের কারাদন্ড এবং ২০হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। সারা দিনই পুলিশ এবং ভ্রাম্যমান আদালতের আতংকে ব্যবসায়ীরা লুকোচুরির মধ্যদিয়ে দিন শেষ করে। পুলিশ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল জোরদার করা হলেও ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে আইন অমান্য করে চলেছে।