রাজবাড়ী জেলায় আম্ফানের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৪ হাজার হেক্টর কৃষি জমি

2

রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ

ঘূর্নিঝড় আম্ফানের প্রভাবে রাজবাড়ীর ৩ হাজার ৮৬৭ হেক্টর কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ ছাড়া আম্ফানের প্রভাবে রাজবাড়ীতে বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল বুধবার রাত থেকে রাজবাড়ীতে শুরু হওয়া ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শেষ হয় আজ সকালে। আম্ফানের প্রভাবে আজ বৃহস্পতিবার সারাদিনই রাজবাড়ীর আকাশ ছিল মেঘলা।

ঝড়ে রাজবাড়ীতে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া না গেলেও অনেকের গাছের আধা কাচা আম ঝড়ে গেছে। যা আর অল্প কিছুদিনের মধ্যে পরিপক্ক হয়ে উঠতো। এছাড়া বিভিন্নস্থানে বাঁশ, বিদ্যুতের খুটি ও গাছ উপড়ে পড়েছে বলে জানাগেছে এবং দীর্ঘ সময়ের বৃষ্টিতে নিচু অঞ্চলের ফসলি জমিতে জমেছে পানি এবং বাতাসে হেলে পড়েছে পাঁকা বোরো ধান। তবে এতে ফলনে কোন প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি জেলা কৃষি কর্মকর্তার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, বর্তমানে রাজবাড়ীতে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর আবাদি কৃষি জমি রয়েছে। যার মধ্যে আম্ফানের প্রভাবে ৩ হাজার ৮৬৭ হেক্টর কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ফসলের মধ্যে রয়েছে বোরো ধান ২৭৫ হেক্টর, পাট ২ হাজার ৮৪০ হেক্টর, শাক সবজি ২১২ হেক্টর, তিল ২৪০ হেক্টর, মরিচ ১০০ হেক্টর, ভুট্টা, মুুগসহ অন্যান্য ২০০ হেক্টর ফসলাদির জমি।

চাষীরা জানান, রাতে অনেক ঝড় বৃষ্টি হয়েছে কিন্তু সে তুলনায় তেমন ফসলের ক্ষতি হয় নাই। তবে কিছু কিছু জায়গার তাদের অনেক চাষীর ধান হেলে পড়েছে। আর নিচুর জমির ফসলে জমেছে পানি। পাট, তিল, বাঙ্গি খেতে পানি দীর্ঘ দিন জমে থাকলে ব্যাপক ক্ষতি হবে।

জেলা কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক গোপাল কৃষ্ন দাস জানান, গতকাল রাতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ৩ হাজার ৮৬৭ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। ঝড়ো বাতাসে ২৭৫ হেক্টর জমির বোরা ধান হেলে গেছে । এছাড়া নিচু অঞ্চলের পাঠ ও তিলে ক্ষেতে হালকা পানি জমেছে। পানি নেমে গেলে আর সমস্যা থাকবে না। ঝড়ো বাতাসে ফসলের বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় নাই।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ শওকত আলী জোয়ার্দার জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে রাজবাড়ীতে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাননি। পাঁচ উপজেলার প্রতিটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকর্মীরা দূর্যোগ পরবর্তীতে উদ্ধারের জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

Sponsored