স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক সম্ভব না বাড়তে পারে ভাড়া

1

জে.এম.আমিন হোসেন : দেশে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলাচলে অনুমতি দিয়েছে সরকার। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। লঞ্চ মালিকরা বলছেন সামাজিক দূরত্ব মেনে লঞ্চ ছাড়া সম্ভব নয়।

নৌ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও পারাবত লঞ্চ মালিক শহিদুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সামাজিক দূরত্ব মেনে লঞ্চ ছাড়া সম্ভব নয়। আর যদি এভাবে চলতে হয় তাহলে অর্ধেক যাত্রী তুলতে হবে, ভাড়া আসবে বেশি। এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক না করেই গণপরিবহন ছাড়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সরকার।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন আমরা নৌমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করছি। নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ করোনার পরিস্থিতিতে নৌ চলাচল নিয়ে কোনো বৈঠকই করেননি। তারাও নৌ প্রতিমন্ত্রীকে কাছে পাননি।

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় সাধারণ ছুটির তুলে নেওয়ার সঙ্গে গণপরিবহন চলাচলে বিধি-নিষেধ তুলে নিয়ে সীমিত পরিচরে চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সে নির্দেশনা অনুযায়ী ৩১ মে থেকে দেশে ট্রেন চলবে। বাস ছাড়ার বিষয়ে মালিকরা নিজেদের মধ্যে আজ বৈঠক করবেন।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী রবিবার (৩১ মে) থেকে সীমিত পরিসরে চলবে লঞ্চ। তবে ভাড়া বাড়বে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকালে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের আদেশেই গণপরিবহনের অংশ হিসেবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। যেহেতু আজকের (২৮ মে) সরকারি আদেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্তসাপেক্ষে স্বল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়ে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আগামী ৩১ মে থেকে লঞ্চ চলবে। তবে শর্ত পরিপালনের বিষয়সহ নানাদিক দিয়ে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান।’ এই সময়ে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও ওই বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সরকারের কোনও আদেশ অমান্য করতে পারবো না। তাই আগামী ৩১ মে রবিবার থেকে লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি কতটা মানাতে পারবো, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান আমি নিজেই। কারণ, ফেরিতে চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাধারণ মানুষের ঘরে ফেরার দৃশ্য দেখেছি।

তিনি বলেন, অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চালালে ধারণ ক্ষমতার পাঁচ ভাগের একভাগ যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি তো প্রাসঙ্গিক। তাই এ বিষয়টি নিয়েও শুক্রবারের বৈঠকে আলোচনা হবে।

মাহবুব উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা যাতে লঞ্চ চালাতে পারি, সেক্ষেত্রে সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও সহযোগিতা লাগবে। কোনোভাবেই আমাদের লঞ্চের স্টাফদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারবো না।’ তারা সুস্থ না থাকলে আমাদের আম-ছালা দুটোই যাবে বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি।