সন্ত্রাসী মিন্টু মৃধার ফের বেপরোয়া বাকেরগঞ্জে

14

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি: বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের পারশিবপুর গ্রামের সন্ত্রাসী ও ভুমি দস্যু মিন্টু মৃধা ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পারশিবপুর গ্রামের মৃত সোহরাব মৃধা’র পুত্র মিন্টু মৃধা এলাকায় একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তার এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ২৪ শে মার্চ বিকাল ৪ টায় একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত রশিদ খানের মেয়ে কাজল বেগম (৪০) এর বসত বাড়ির উঠানে এসে জমি-জমার জেরে গাল মন্দ করে মিন্টু মৃধা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। কাজল বেগম প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে খুন করার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এসময় কাজল বেগম মাটিতে সুয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তার গলায় ও কানে থাকা স্বর্নের অলংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। কাজল বেগমের ডাক চিৎকার শুনে প্রতিবেশি বাদল মিয়া ও সুমি আক্তার এগিয়ে আসলে মিন্টু মৃধা ও মোস্তফা মৃধা তাদের উপরেও হামলা চালায়। হামলাকারীরা একপর্যায়ে কাজল বেগমের বসত ঘরে দরজা জানালা ভাংচুর চালালে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। আহত কাজল বেগম চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কাজল বেগম সাংবাদিকদের জানান, থানায় অভিযোগ করার পর থেকে মিন্টু মৃধা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা হুমকি-ধামকি দিয়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে হত্যা করবে এমন ভয় দেখিয়ে মীমাংসার জন্য স্বাক্ষর রাখেন। ঘটনার তিন মাস পার হলেও কোন সুরাহা পায়নি কাজল বেগমের পরিবার।

তিনি আরো জানান, সন্ত্রাসী মিন্টু মৃধা এলাকার আলোচিত আমজাদ প্যাদা খুনের আসামি ছিলেন এবং পাশের বাড়ির ভাগ্নি রুচিতা (ছদ্ধ নাম) আক্তার কে একাধিকবার ধর্ষণ করলে সে বাচ্চাসহ স্বামীর ঘর ছাড়তে বাধ্য হন।

বর্তমানে মিন্টু মৃধা দুদক এর মামলায় অভিযুক্ত। এছাড়াও তার রয়েছে বিশাল ক্যাডার বাহিনী তাদের মাধ্যমে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, জমি দখল সহ নানা কুকর্ম করে বেড়াচ্ছে। মির্জাগঞ্জ উপজেলা সহকারি সাব রেজিস্ট্রার পদে চাকুরী করার সুবাদে বিভিন্ন জায়গায় নামে বেনামে অঢেল জমি-জমা, বাড়ি ও টাকা পয়সার পাহাড় গড়েছেন। সর্বপরি মিন্টু মৃধা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তার অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন ভূক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।