ঢাকা জজ কোর্টের সেরেস্তাদার-এর বিলাসবহুল জীবন

19

অলিউর রহমান পেশায় একজন সরকারি তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। বর্তমানে কর্মরত আছেন, ঢাকা জর্জ কোর্টের সেরেস্তাদার পদে। তার আনুমানিক বেতন সর্বসাকুল্যে – ২৪,০০০ – ৩০,০০০ টাকা, কিন্তু তিনি পার করছেন অত্যাধিক বিলাসবহুল জীবন।

অলিউর রহমান এর জন্ম ১৯৬৬ সালের ২ মার্চ, বরিশাল বিভাগে। পিতা সিরাজুল ইসলাম ও মাতা আম্বিয়া বেগম এর প্রথম সন্তান তিনি।

অলিউর রহমানের বর্তমান বাসস্থান উত্তরায়, ৪ নং সেক্টরের ৭ নং রোডের ১২১ নং বাড়ির এ-২ ফ্ল্যাটে তিনি স্বস্ত্রীক একমাত্র সন্তানসহ বসবাস করেন, যার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। এছাড়া মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় ১৯ নং রোডে তার ৬ তালা একটি বাড়িও রয়েছে।

অলিউর রহমান পেশায় সেরেস্তাদার হলেও তার আর্থিক স্বচ্ছলতা অনেক। জানা যায় তার নামে-বেনামে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে একাউন্ট রয়েছে, এছাড়া তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দুইটি গাড়ী রয়েছে। তার দুইজন ড্রাইভার রয়েছে যাদের বেতন ৩০,০০০ টাকা। সরকারি সঞ্চয়পত্র, স্ত্রী-সন্তানের নাম ডিপোজিট সহ তিনি বিভিন্নভাবে অর্থ সঞ্চয় করে রেখেছেন। তার এই সকল সম্পদের খোঁজ দিয়ে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) -এ বেশ কয়েকবার অভিযোগ দিয়েও তার কোনো তদন্ত করানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, দুদকে তার পরিচিত লোক থাকায় তাদের অর্থ প্রদান/ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে তিনি অভিযোগ গায়েব করে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অলিউর রহমানের নিকট এক আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, তিনি প্রতি বছর স্ব-পরিবারে একবার বিদেশ ভ্রমণে যান, এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে তিনি একাও বিদেশ ভ্রমণে যান, এবং সেখানে তার সফর সঙ্গী হিসেবে থাকেন তার মেয়ে বান্ধবীরা। এছাড়া আরও জানা যায় বাংলাদেশে তার বেশ কয়েকজন নারী বান্ধবী রয়েছে, যাদের সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এই ব্যাপারে তার স্ত্রী ইসরাত জাহানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যান।

অলিউর রহমান ও ইসরাত জাহানের এক মাত্র সন্তান শাহরিয়ার রহমান সোহান বর্তমানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালযের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনীরিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। বিলাসবহুল জীবনের এক অংশ হিসেবে সোহান সাধারণত লা-ম্যারিডিয়ান ছাড়া অন্য কোথাও ডিনার করতে পছন্দ করেন না।

অলিয়ার রহমান ঢাকার অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ী ব্যবহার করেন, ঢাকার বাইরে যাতায়াত এর জন্য তিনি সর্বদা বিমান পথে যাতায়াত করেন, এমনকি নিজ গ্রামে যাতায়াতের জন্যও তিনি বিমান ব্যবহার করেন।

এই বিষয় নিয়ে তার পরিবারের করো সাথে যোগাযেগ করতে চাইলে তারা কথা বলতে রাজী হয়নি।